ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ধার শহরের কামাল মাওলা মসজিদের অংশ মন্দির হিসেবে ঘোষণা

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে অবস্থিত প্রায় হাজার বছরের পুরনো কামাল মাওলা দরগা ও মসজিদের একটি অংশকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই রায়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজ্য সরকারের কাছে নামাজের জন্য খোলা অন্য কোনো স্থান চেয়ে নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোজশালা নামে পরিচিত ওই স্থাপনা ও কামাল মাওলা মসজিদকে ঘিরে অনেক দিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো দাবি করে আসছে যে মসজিদটির ভিত্তি আসলে রাজা ভোজের সময়ে তৈরি করা প্রাচীন সরস্বতী মন্দির; অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ এটিকে কামাল মাওলা মসজিদ বলে দাবি করে।

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকার সে জায়গায় পরিচালনায় নরম নীতি বহাল রেখেছিল—মঙ্গলবার হিন্দুদের পুজা ও শুক্রবার মুসলিমদের নামাজ করার অনুমতি দেওয়া হতো, আর বাকি দিনগুলোতে সাধারণভাবে প্রবেশের ছাড়া বেশি কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০২২ সালে ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’সহ কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মসজিদে মুসলিমদের নামাজ বন্ধ করার দাবিতে আদালতে যায়।

এই মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) ওই স্থানের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিল। ৯৮ দিন ধরে চালানো সমীক্ষার পরে এএসআই আদালতে প্রায় দুই হাজার পাতার প্রতিবেদন জমা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান মসজিদের নিচে পারমার বংশের আমলে তৈরি একটি বড় কাঠামোর অস্তিত্ব ছিল।

শুক্রবার বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থীর বেঞ্চ ওই মামলায় হিন্দু পক্ষের পক্ষে রায় দেন। আদালত বিবেচনা করে উল্লেখ করেছে যে বিভিন্ন ইতিহাসগত তথ্য ও নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে ওই স্থানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনও সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়নি। পাশাপাশি ঐতিহাসিক সাহিত্যেও বিতর্কিত এলাকাটি রাজা ভোজের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত আছে — এই কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে অংশটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, বলা হয় রায়ে।

আদালতের নির্দেশে ভবিষ্যতে ভোজশালার ঐ অংশের সংরক্ষণ ও রক্ষার তত্ত্বাবধান করবে এএসআই; সংরক্ষণ কার্যক্রমে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। হিন্দু পক্ষের আবেদনকারীরা লন্ডনের একটি জাদুঘর থেকে সরস্বতীর মূর্তি এনে সেখানে স্থাপন করতে চান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সেই সম্পর্কিত একাধিক আবেদন জমা রয়েছে; আদালত বলেছে, কেন্দ্র সেই আবেদনগুলো বিবেচনা করতে পারে।

অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ সমীক্ষা প্রতিবেদন ও রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেছে এবং নামাজের স্থানের বিষয়ে সরকারের কাছে বিকল্পের ব্যবস্থা চেয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হলেও সেটি নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপট দেশের ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণ, সংগ্রামরত সম্প্রদায়ের অনুভূতি ও ধর্মীয় অধিকার—এসব বিষয়কে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ছুঁড়ে দিয়েছে। সরকার, আদালত ও আরকিওলজিস্টদের সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে এই ধরণের সংবেদনশীল কেসে কী precedent (আগাম নির্দেশ) স্থাপন করে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার