ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বিজিবি সতর্কতার সাথে গবাদিপশু প্রবেশ প্রতিরোধে অবস্থান অব্যাহত

প্রাকৃতিক উৎসব ঈদুল আযহার জন্য গবাদিপশুর নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত পথে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে সরকার, বিজিবি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ বিষয়ে জানান, দেশের সীমান্তে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে যাতে কেউ অবৈধ পশু প্রবেশ করতে না পারে।

মন্ত্রী বলেন, এবার কোরবানির জন্য দেশের বিভিন্ন খামার ও পশুর বাজারে পর্যাপ্ত সংখ্যক গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বছর প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি জন্য প্রস্তুত আছে, আর সরকার কোন পশু আমদানি করবে না। বৃহস্পতিবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেকের মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ সব কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, দেশব্যাপী কোরবানির জন্য যে পশুর চাহিদা, তার থেকে অনেক বেশি প্রস্তুতিসহণ রয়েছে। গরু, ছাগল ও ভেড়াসহ সব ধরনের পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। মন্ত্রী emphasize করেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় গবাদিপশুর কোনও সংকট নেই। বাংলাদেশ এখন মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর ফলে বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং ক্রেতাদের জন্য সুফল আসবে।

অন্যদিকে, মন্ত্রী আরও জানান, সীমান্তে গবাদিপশু প্রবেশের ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য দেশের বিভিন্ন সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে যাতে অবৈধ পশু প্রবেশ ঠেকানো যায়।

বিশেষ করে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮০ একর জলাশয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিপুল অর্থনৈতিক লাভের সম্ভবনা রাখে। দীর্ঘদিন এই জলাশয়টি ব্যবহারে উদাসীনতা থাকলেও এখন তা পুনরায় কাজে লাগানো হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার প্রায় ৩৯৫ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। লেকগুলোতে লম্বা সময় চাষাবাদ বন্ধ থাকার কারণে জলাশয়ে কিছু রাক্ষুসে মাছের উপস্থিতি রয়েছে, সেজন্য বড় আকারের পোনা দিয়ে মাছের চাষ শুরু হয়েছে যেন বেশি ধ্বংস না হয় আর সহজে টিকে থাকতে পারে।

তিনি সংক্ষেপে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেত গেলে কৃষি ও মৎস্য খাতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ধান, পাট বা মাছের মতো ক্ষেত্রগুলো বিনা কাজে বা অনাবাদি রাখা যাবে না। পরিকল্পিত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষকের অর্থনৈতিক স্বক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড ও স্বল্পসুদে কৃষিঋণসহ নানা কৃষিবান্ধব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে মোট ৩৯৫ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে রুই ১৫৮ কেজি, কাতলা ১১৮.৫ কেজি, মৃগেল ৭৯ কেজি এবং কালিবাউস ৩৯.৫ কেজি।