ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

কন্নড় অভিনেতা দিলীপ রাজের অকাল মৃত্যু

কন্নড় সিনেমার জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর অকাল চলে যাওয়ায়। জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক দিলীপ রাজ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ বছর বয়সে পর মারা গেলেন। ক্যারিয়ারের মাঝপথে এই আকস্মিক মৃত্যু কন্নড় সিনেমা সঙ্গেই সঙ্গে সম্পূর্ণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের জন্য বড় এক শূন্যতা সৃষ্টি করল।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন দিলীপ রাজ। তার শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয় কিছু সময় পরে। দ্রুত তাকে বেঙ্গালুরুর একটি নামি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে চেষ্টা করেও রক্ষা করতে না পেরে মৃত ঘোষণা করেন। ৪৭ বছর বয়সে একজন স্বাস্থ্যবান ও জনপ্রিয় অভিনেতার অকাল মৃত্যুতে তার ফ্যান এবং সহকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করছেন।

শিল্পের বহুমুখী প্রতিভাধর এই ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন শোবিজ অঙ্গনের অনেক মানুষ ও ভক্ত-অনুরাগীরা। অভিনেতা চেতন কুমার তার স্মৃতি প্রকাশ করে বলেন, ‘দিলীপ শুধু একজন দক্ষ অভিনেতাই ছিলেন না, একজন মানবিক ব্যক্তি হিসেবেও খুবই বিশেষ ছিলেন। তার মতো আন্তরিকতা খুব কম মানুষই দেখেছে।’

দিলীপ রাজের কাজের পরিধি ছিল বিশাল। ছোট পর্দায় তিনি একজন সুপারস্টার। ‘রঙ্গোলি’, ‘কুমকুম ভাগ্য’, এবং হাল আমলের জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘হিটলার কল্যাণ’-এ তার অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিল।

২০০৫ সালে তিনি বড় পর্দায় অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০৭ সালে পুণিত রাজকুমারের ব্লকবাস্টার ছবি ‘মিলানা’-র ভিলেনের চরিত্রে তিনি দারুণ পারফরম্যান্স করে দর্শকদের মনে গেঁথে যান। এরপর ‘ইউ-টার্ণ’, ‘লাভ মকটেল ৩’সহ মোট প্রায় ২৪টির বেশি সিনেমায় তার উপস্থিতি ছিল।

অভিনেতা ছাড়াও তিনি একজন সফল প্রযোজক। তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘ডিআর ক্রিয়েশনস’ থেকে বেশ কিছু হিট ধারাবাহিক ও সিনেমা তৈরি হয়েছে।

অভিনয়, প্রযোজনা এবং থিয়েটার—all ক্ষেত্রেই তার অবদান ছিল কন্নড় চলচ্চিত্র জগতে অতি গুরুত্বপূর্ণ। আজীবন তিনি ‘হিটলার কল্যাণ’ এর নায়ক হিসেবে মানুষের মনে থাকবেন, তার এই অবদানের জন্য তিনি চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন অনুরাগীরা।