ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

হান্টা ভাইরাসের নতুন সতর্কতা ও গবেষণার খবর

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইউরোপগামী এমভি হুনডিউস প্রমোদতরির যাত্রীরা হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ভাইরাসে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যা উদ্বেগের কারণে ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের এক নতুন ধরন, যা মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে, সেটি এখন বেশ উদ্বেগজনক। তারা এই ধরনটিকে ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’ নামে অভিহিত করেছেন। এই সংক্রমণে আক্রান্ত তিনজনের মৃত্যু ছাড়াও এখন পর্যন্ত ছয়জনের দেহে হান্টা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর পক্ষ থেকে।

সাধারণত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালা থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে। তবে, এটির এক নতুন ধরন নিয়ে গবেষণায় উঠে এসেছে, আক্রান্ত ব্যক্তির লালায়ও ভাইরাসটি দৃশ্যমান। এর মানে, চুম্বন, পানীয় ভাগাভাগি বা খুব কাছ থেকে কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারের সদস্যদের তুলনায় যৌন সঙ্গীদের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ১০ গুণ বেশি।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকায় পাখি দেখার সময় দু’ ডাচ পর্যটক ইঁদুরের মাধ্যমে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। পরে তাদের মাধ্যমে অন্যান্য জাহাজে থাকা যাত্রীদের মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা প্রমোদতরিতে তখন প্রায় ১৫০ যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে, ১১ এপ্রিল একজন যাত্রী মারা যান এবং ২৪ এপ্রিল বেশ কিছু যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে যান। এখন এই ভাইরাসের ব্যাপারে বিশ্বজুড়ে কর্তৃপক্ষ সবাইকে দ্রুত অনুসন্ধান ও নজরদারির তৎপরতা চালাচ্ছে।

তবে, এই ভাইরাসের আতঙ্কে কোভিড মহামারির মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা। ডব্লিউএইচও এর এক সংবাদ সম্মেলনে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ বলেন, হান্টা ভাইরাসে সংক্রমিত জাহাজের সকলকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা সন্দেহভাজন রোগীদের সেবা দিচ্ছেন বা সংস্পর্শে আসছেন, তাদের জন্য বেড়ে দেওয়া হয়েছে সুরক্ষামূলক পোশাক ও সরঞ্জামের ব্যবস্থাও।

তিনি আরও জানিয়ে বলেন, এই ভাইরাসের সংক্রমণ সাধারণত খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে ঘটে, তবে এটি কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো এই ভাইরাস ব্যাপক ছড়ায় না। সংক্রমণের ধরনও আলাদা। মহামারি হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার অ্যান্ড্রু পোলার্ড বলেন, এই ভাইরাসের মহামারি হবার মতো বিস্তার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাদের মতে, সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তেমন নয় এবং পর্যাপ্ত সতর্কতা ও প্রকারভেদে কেয়ার করলে সহজেই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।