ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

দুর্নীতি-অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের ভেতরে ঢুকলেই উদ্বিগ্ন হচ্ছেন—কারণ যেখানে তাকাই সেখানে শুধু অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি দেখা যায়, যা দেশের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এসব কথাই জানিয়েছেন শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, তদবির ছাড়া কাজ হয় না—গত পনেরো বছরে এটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেকেই ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ার জন্য তদবির করেছেন; এটা সিস্টেমের ব্যাধি। তাঁর বক্তব্য, মেধা ও দক্ষতা ছাড়া এগোনো সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে যখনই আলোচনা হচ্ছে সেটা ভালো; কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে এগুলোকে ব্যবহার করা উচিত হবে না। এসব প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বহু জায়গায় বিএনপি ছিল এবং কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টও জমা দিয়েছিল।

উচ্চকক্ষে পিআর নিয়ে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে দলের একটি অংশের সঙ্গে তারা সহমত হয়নি—তবু এখন সরকার সহজভাবে সবকিছু করে ফেলার চেষ্টা করছে, অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই বলছে বিএনপি সংস্কার মানে না; অথচ বিএনপিই সংস্কারের জনক। কেউ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং জামায়াতও এই ইস্যুতে আন্দোলন করছে, যার উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা।

অর্থনীতি জোরালো করা এখন বিএনপির প্রধান লক্ষ্য—এ অবস্থার উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐক্য জরুরি, বলেন তিনি। ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়ে ঈর্ষনীয় পরিমাণ দেনা রেখে গেছে, যার ফলে দেশের অর্থনীতির কাঠামো ভেঙে গিয়েছে; তাই অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করাই প্রয়োজন।

শেষে তিনি বলেন, বিএনপির ইতিমধ্যেই অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আছে; নতুন কোনো সহযোগী সংগঠনের প্রয়োজন নেই। ‘জিয়া পরিষদ’ের নামে দোকান খোলাটা তিনি চান না এবং সকলকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন।