ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জামায়াত আমিরের অভিযোগ: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর বলেন, একসময় বিএনপির সঙ্গে তারা একসঙ্গে ছিল এবং তখন তাদেরও নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু এখন বিএনপি আচরণে এমন বদল ঘটিয়েছে যে, তারা একে সময়কার আওয়ামী লীগের অনুকরণ করছে না বরং ফ্যাসিবাদী মনোভাব গ্রহণ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা একসময় লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার করে ক্ষমতা কায়েম করেছিল, আজ তারা সেই স্তরের সহায়ক পায়নি।

জামায়াত আমির আরো বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যেসব মৌলিক পরিবর্তন দরকার—সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়া—এসব বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলেছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির প্রতিবাদ করছে, এমনকি নিজেরাই সেই মর্ম বোঝার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে বলে দাবি করেন।

ডা. শফিকুর রহমান শহীদ পরিবারের বেদনাকে উল্লেখ করে বলেন, যদি ২৪–এর ঘটনাগুলো না ঘটত, যদি সেই মায়েরা-বাবারা-ভাই-বোনেরা জীবন না দিত, তাহলে বর্তমান ক্ষমতা ভোগ্য হতো না। তবে ক্ষমতায় আসার আগে তাঁদের কষ্টে যে সহমর্মিতা দেখানো উচিত ছিল, তা হয়নি। ৫ ও ৭ আগস্টের পরেও শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি কোন কার্যকর মনোভাব দেখা যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন, তারা দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন—এটিও ওই আন্দোলনের ফল। জেলে থাকা সংগ্রামী নেতাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই বিশ্বাস করতেন ৪১ নম্বর বিভাগের আগেই কোনো সরকারের পরিবর্তন হবে না; কিন্তু পরে ঘটে যাওয়া সবকিছুকে তিনি ‘খোদার দান’ ও ‘মিরাকল’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং কেউ কেউ এটি নিজেদের কৃতিত্ব বলে দাবি করলে তা মিথ্যাচার বলেই খণ্ডন করেন।

জামায়াতে ইসলামি কখনোই অন্যদের ন্যায্য অবদানকে অবমূল্যায়ন করে না—এই বার্তাও দেন তিনি। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র, শ্রমিক, মা-বোনেরা সবই জীবন বাজি রেখে অংশ নিয়েছিলেন; তাদের ত্যাগ ভুলে যাওয়া চলবে না। আন্দোলনের নেতাদের সম্মান করা শিখতে হবে এবং তাদের প্রতি তুচ্ছ আচরণ বন্ধ করতে হবে।

সংসদে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি, শপথ না নেওয়া ও প্রতিশ্রুতিভঙ্গের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা—এসবকেও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, যে আইনগুলো না বদলালে বা অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত না হলে স্বৈরাচারী শাসনের পরিবর্তন সম্ভব হবে না, সেসব বিষয়ে বিএনপি বিশৃঙ্খলা ও বাধা সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন স্থানে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে ছাত্রসংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, এসবই दर्शায় যে বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।

ডা. শফিকুর বলেন, তিনি এমন এক বাংলাদেশ চান যেখানে সকালবেলা শিশুরা, কিশোর-কিশোরীরা, নারী-পুরুষ নির্বিঘ্নে ঘরে থেকে বের হতে পারবে; যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুরি-কাছুরি নয়, কেবল খাতা-কলম থাকবে; যেখানে কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের পথ আটকাবে না। তিনি বলেন, এই সংস্কৃতিকে বন্ধ করা প্রয়োজন; না হলে ‘জুলাই’ আন্দোলন বারবার ফিরে আসবে এবং শেষপর্যন্ত ফ্যাসিবাদের কবর লেখা হবে।

শেষে তিনি সবাইকে শুভ বুদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং ৭০ শতাংশ মানুষের রায় মানতে হবে। যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তবে তাদের লড়াই সংসদের ভেতর এবং খোলা ময়দান—দুই জায়গাতেই চলবে, ইনশাআল্লাহ।