ঢাকা | সোমবার | ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

খুলনা প্রেসক্লাবে হামলা: চারের নাম উল্লেখ, ২০-২৫ অজ্ঞাতকে আসামি—গ্রেপ্তার নেই

খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটার পর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলায় রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজান নামীয় চারজনকে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের সাথে জড়িত অজ্ঞাতপরিচয়ের ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।

বাদীর বরাত দিয়ে পুলিশের এজাহারে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙচুরের সরঞ্জাম নিয়ে প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে এবং কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে মারধর করে। ঘটনার পর রাতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

মামলার তদন্তভার পাওয়া খুলনা থানার সার্ভেন্ট ইনস্পেক্টর বিশ্বজিৎ বসু জানান, মধ্যরাতে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে রাতভর তল্লাশি ও সিসি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাই করা হয়েছে। তখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, তবে অভিযান চলছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, ফুটেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে গিয়ে জানা গেছে, রোববার খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চলার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সভাপতি প্রার্থী ও সাংবাদিক মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে গালিগালাজ শুরু করে। টিভি খুলনার বিশেষ প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের থেকে তাকে থামাতে বলার বদলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়।

এই ঘটনায় খুলনা প্রেসক্লাবের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকরা ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, প্রেসক্লাবের মতো নিরাপদ স্থানে এ ধরনের সহিংসতা প্রযোজ্য নয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তারা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টায় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএফইউজে সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন বলেন, ঘটনাটিতে বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী জড়িত থাকতে পারে যারা কারো ইন্ধনে কাজ করেছে; এটি প্রেসক্লাবের জন্য লজ্জাজনক একটি ঘটনা। তিনি সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।