ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

অচেতন অবস্থায় সুইমিংপুল থেকে উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস

ইউরোপের সিনেমা জগতে এক অনিবার্য শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জনপ্রিয় ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেসের অকাল মৃত্যু সিনেমার পর্দার বাইরেও যেন এক বিষাদের ছন্দ বুনে দিয়েছে। তার জীবনযাত্রার এক নাটকীয় অধ্যায় আজ ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে।

১৬ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই দুর্ভাগ্যজনক খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই ইউরোপীয় চলচ্চিত্র মহলে শোকের রঙে রঙিন হয়ে গেছে পরিস্থিতি।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়া কেন্দ্রের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা চেষ্টা করেন উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার, তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়। لكن সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে তার জীবন শেষ হয়।

ফরাসি প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকা লে ফিগারো জানিয়েছে, এই ঘটনায় তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, আপাতত মনে হচ্ছে এটিতে কোনো অপরাধের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

নাদিয়া ফারেস আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন তাঁর অসাধারণ অভিনয়ের জন্য, বিশেষ করে ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’ চলচ্চিত্রে। এছাড়া, তিনি ‘মার্সেই’ সিরিজেও অভিনয় করেছিলেন, যেখানে তার দারুণ পারফরম্যান্স দর্শকদের গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করে।

তিনি ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব কাটে ফ্রান্সের নিস শহরে। এরপর স্বপ্নের পেছনে প্যারিসে এসে ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে যোগ দেন এবং অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন।

অভিনয় সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও, ২০০৯ সালে প্রযোজক স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করার পর কিছুদিনের জন্য মিডিয়া থেকে দূরে থাকেন। পরে ২০১৬ সালে আবার অভিনয়ে ফিরে আসেন এবং ২০২২ সালে ফ্রান্সে পুনরায় সক্রিয় হন। তার এই জীবনযাত্রার গল্প অনুপ্রেরণামূলকভাবে আমাদের জন্য বিদায়ী এক স্মৃতির পাতায় সমৃদ্ধ হয়ে থাকছে।