ঢাকা | সোমবার | ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি: ২৮ নতুন, ৮ পুনরায় মনোনীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি ৩৬ জনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা ঘোষণা করেন।

ঘোষিত তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার নতুনদের প্রাধান্য দিয়েছেন দল; মোট ৩৬ জনের মধ্যে ২৮ জন প্রথমবারের মতো সংরক্ষিত আসনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় সংসদে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য হচ্ছেন। অপরদিকে ৮ জন এমপি হিসেবে পূর্বেও সংরক্ষিত কোটায় ছিলেন।

পূর্বে সংসদে ছিলেন এমন সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, রেহান আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ এবং নেওয়াজ হালিমা আর্লি।

তালিকায় দুই নির্বাচিত প্রার্থীর পারিবারিক রাজনৈতিক যোগসূত্রও বিশেষভাবে নজর কাড়ে। বিএনপি নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরীর বাবাই সাংস্কৃতিক বিষয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, আর তার শ্বশুর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। অন্য একজন শিরিন সুলতানা; তার স্বামী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইনও এই তালিকায় রয়েছেন। পাশাপাশি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত তিনজনকেও সংরক্ষিত কোটায় স্থান দেওয়া হয়েছে— ঢাকা-১৪ আসনের সানজিদা ইসলাম তুলি, যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা ও শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন।

দলের বিভিন্ন ওয়ার্ম ও সংগঠন থেকে মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান আছেন। মিডিয়া সেল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মাহমুদা হাবিবা ও শাম্মী আক্তার। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি থেকে জায়গা পেয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ, আরিফা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তার; তিনি মনোনীতদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ এবং তার বাবা ছিলেন প্রয়াত অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী।

তালিকায় এমন কয়েকজনও রয়েছেন যারা ততটা সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়— তাদের মধ্যে জহরত আবিদ চৌধুরী, যিনি মোবাইল অপারেটর বাংলা লিংকের সিইও।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘‘অভিজ্ঞ, রাজপথে দীর্ঘদিন নিপীড়ন-নির্যাতনভোগী নেত্রীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। দল তাদের সহজভাবে মূল্যায়ন করেছে।’’ তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও ‘প্রধানমন্ত্রী’ তারেক রহমান দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মনোনীতদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও শপথ গ্রহণের পর ভবিষ্যতে তারা কী ভূমিকা রাখবেন— তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও দলের ভিতরের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে ঘোষিত এই তালিকাই দলীয় পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।