ঢাকা | সোমবার | ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

অশ্রুপূর্ণ বিদায়: আশা ভোসলের অবয়ব পঞ্চভূতে মিলায় গেলেন

ভারতীয় সংগীতের জগতে এক অবিস্মরণীয় নক্ষত্র hope ভোসলের জীবন তাঁর শেষ নিঃশ্বাসের সময় পঞ্চভূতে মিলিয়ে গেলেন। সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হলো তার শেষকৃত্য, যা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে আনন্দ ভোসলে, তিনি শেষক্রিয়ায় মুখাগ্নি করেন। এ অনুষ্ঠানে তার প্রেয়সী সুরের আরাধনা চিরতরে নিভে গেল। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।   

গতকাল থেকে মুম্বাইয়ের লোয়ার পার্লে তার বাসভবন ছিল শোকাবহ চাঁদনী। সেখানে ছিল গভীর শোকের ছায়া, কোনো উৎসবের রঙিন আলো ছিল না; কেবলই শোকের আবেগ। তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণা গায়িকা মীনা খড়িকর, এই দিকপাল তারকারা—অভিনেতা আমির খান, ক্রিকেট আইকন শচীন টেন্ডুলকার, সংগীত পরিচালক এ আর রহমান, অভিনেত্রী টাবু, আশা পারেখ, নীল নীতিন, মুকেশ, জ্যাকি শ্রফ এবং আরও অনেকে। রাজনৈতিক মহলের নেতারাও শেষবারের মতো শেষশ্রদ্ধা জানাতে শোকে ভরা এই সমাবেশে হাজির হন।

আশা ভোসলের মরদেহ প্রথমে তার বাসভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় শিবাজি পার্কের শ্মশানে। তার মরদেহ সাজানো ছিল প্রিয় সাদা-প্যাচের হলুদ রঙের ফুলে। রাস্তার দু’পাশে ছিল অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীর ঢল। তারা চোখের জল আর ভালোবাসার অশ্রু ঝরে দিয়ে শেষ বিদায় জানান ওই মহান গায়িকা। শ্মশানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিনোদন, রাজনীতি এবং ক্রীড়া জগতের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

আগামী ১১ এপ্রিল, অসুস্থ হয়ে উঠলে তাকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

আশা ভোসলের সংগীতের ক্যারিয়ারের সূচনা হয় ১৯৪৩ সালে, যেখানে শুরু হয় তার দীর্ঘকাল ধরে জারি থাকা সংগীতজীবন। তিনি শুধু হিন্দি গানই নয়, আরও ২০টির বেশি ভারতীয় ভাষার গান এবং কিছু বিদেশি ভাষায় গান রেকর্ড করেছেন। তার গানে মোট ৯২৫টির বেশি সিনেমায় কণ্ঠ দিয়েছেন বলে ধারণা, আর মনে করা হয় তিনি গেয়েছেন ১২ হাজারেরও বেশি গান। ভারতের সরকার তাকে ২০০৮ সালে সম্মান জানিয়ে পদ্মভূষণ পুরস্কার দেয়। ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে সর্বাধিক গানের রেকর্ডকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

আশা ভোসলের বড় বোন লতা মঙ্গেশকর তার প্রথম বিয়ের সময় গণপতরো ভোসলে নামে একজনের সঙ্গে যুক্ত হন, যখন তার বয়স ১৬। এর সময় গণপতরো তিনি ৩১ বছরের ছিলেন। এই সংসার ১৯৬০ সালে ভেঙে যায়। এরপর ১৯৮০ সালে তিনি আরডি বর্মনকে বিয়ে করেন, এবং ১৯৯৪ সালে মারা যান তার দ্বিতীয় স্বামী।