ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ নিহত, ১,৫৪৮ আহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

বাংলাদেশে মার্চ মাসে ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী আজ শনিবার (০৪ মার্চ) প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ওই সময়ের মধ্যে ২২২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অংশ ৩৬.০৩ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৬১ শতাংশ এবং আহতের ১২.৭২ শতাংশ।

আঞ্চলিকভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে—এখানে মার্চে ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত এবং ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা হয়েছে বরিশাল বিভাগে।

সংগঠন ৯৭৫টি দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। শনাক্তকৃত যানবাহনের মধ্যে ২৬.৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১.৬৪ শতাংশ ট্রাক/পিকআপ/কাভার্ডভ্যান/লরি, ১৩.৮৪ শতাংশ বাস, ১৪.৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭.২৮ শতাংশ সিএনজি অটোরিকশা, ৮.৪১ শতাংশ নছিমন-করিমন/মাহিন্দ্রা/ট্রাক্টর/লেগুনা এবং ৭.৪৮ শতাংশ কার/জিপ/মাইক্রোবাস ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে—মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৪৬ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা, ২১.৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে খাদে পড়া, ৭.১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩২ শতাংশ চলন্ত যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি—মোটের ৪০.৯০ শতাংশ। আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩০.০৩ শতাংশ এবং ফিডার রোডে ২২.০৭ শতাংশ দুর্ঘটনা হয়েছে। পাশাপাশি মোট দুর্ঘটনার ৫.৫১ শতাংশ ঢাকায়, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

প্রতিবেদনে-মতে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অপ্রতিবন্ধক চলাচল; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং ও সড়কবাতির অভাব; রেলক্রসিংয়ে আচমকা যান ওঠা; সড়কে মিডিয়ানে বিভাগকারী ডিভাইডার না থাকা ও অন্ধ বাঁকে গাছপালা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধ সৃষ্টি করা; মহাসড়কের নির্মাণজনিত ত্রুটি; যানবাহনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন অমান্য; উল্টো পথে চলাচল ও চাঁদাবাজি; পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন; বেপরোয়া গতি ও দীর্ঘসময় চালানো; এবং ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল বৃদ্ধি পাওয়া।

দুর্ঘটনা কমানোর জন্য যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু করার সুপারিশ করেছে। তাদের উল্লেখিত প্রধান সুপারিশগুলো হল—মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন শিথিল না করা; জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাত্রিকালীন আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া এবং যানবাহনের ডিজিটাল মাধ্যমে ফিটনেস যাচাই কার্যক্রম শুরু করা।

আরও সুপারিশে বলা হয়েছে—বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলে অন্তত ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইসেন্স না দেয়া, পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ত্যাগ, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন চালু করা, সড়কে চাঁদাবাজি রোধ করা ও চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা। এছাড়া মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারীর পারাপার ব্যবস্থা তৈরি, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক তৈরি, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট চালুর ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সংগঠনটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, বিশেষত ঈদযাত্রার সময় ব্যাপক ভ্রমণ সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া দরকার এবং ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোও জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের একটি অংশ।