ঢাকা | রবিবার | ৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৭ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

পদ্মা বাসডুবিতে নিহতদের ঘটনায় সাকিব-তামিমসহ ক্রিকেটারদের শোক

পদ্মা নদীতে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো দেশ শোকাহত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখে পড়ছে স্বজনরা কাতর কণ্ঠে আহাজারি ও মরদেহ উদ্ধারের করুণ দৃশ্য, যা স্বাধীনতা দিবসের আগের এই সময়টা আরও বিষাক্ত করে তুলেছে। দেশের শোকে ক্রিকেটারেরাও কণ্ঠ মিলিয়েছেন।

সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, লিটন দাসসহ বেশ কয়েকজন জাতীয় তারকা তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এই দুর্ঘটনার প্রতি দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তামিম তার অফিসিয়াল পেজে দুর্গটনার একটি ছবিসহ লিখেছেন—‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক মানুষকে দোয়ায় রাখছি। আল্লাহ তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও আরোগ্য দান করুন।’ তিনি পোস্টে বাসডুবির ছবিটি শোকের আবেশে শেয়ার করেছেন এবং ২৫ মার্চ ২০২৬-কে স্মরণীয় করে তোলার কথা জানিয়েছেন।

সাকিব গতকাল ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গতকালের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা। নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।’

টিমের উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘ফেরিঘাটে আজকের মর্মান্তিক ঘটনাটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই পথেই আমি নিজেও চলাচল করি—আজ হয়তো আমি সেখানে থাকতাম। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন। যারা স্বজন হারিয়েছেন, আল্লাহ তাদের শোক সহ্য করার শক্তি দিন।’

কিছুদিন ধরেই রেল দুর্ঘটনা, সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা এবং আশপাশের অন্যান্য দুর্ঘটনায় ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরতে গিয়ে অনেক পরিবারে আনন্দের বদলে শোক নেমে এসেছে বলে খেলোয়াড়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। লিটন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘দেশজুড়ে দুর্ঘটনার খবর দেখে গভীরভাবে মর্মাহত। এত মানুষের প্রাণহানি ও কষ্ট হৃদয়বিদারক।’’ অন্য ব্লগার ও ক্রিকেটাররাও ক্ষোভ ও দুঃখ ব্যক্ত করেছেন—কেন প্রতিবার ছুটির সময় এমন অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা ঘটে তা নিয়ন্ত্রনে আনার তাগিদ তুলেছেন অনেকে।

প্রাথমিক দিকে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পল্টুন ছিঁড়ে নদীতে পড়ে যায়। ফেরিতে উঠার আগেই অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে পড়ায় তারা বেঁচে গেছেন; কেউ কেউ সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন। তবে অনেকে তাদের মা-বাবা, ভাইবোন হারিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও অনেক লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে পরিবারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে।

দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় সজাগতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে সামাজিকমাধ্যমে ও মাঠে সমবেদনা জানানো হচ্ছে। দেশবাসীর collectively শোক ও সহানুভূতির মধ্যে চলছে উদ্ধারকর্ম ও অনুসন্ধান।