বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানকে আট উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজের তীব্র বোলিংয়ে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারী পাকিস্তান দল। পরে লক্ষ্য তাড়া করে টাইগাররা মাত্র ১৫.১ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এই ফলাফল নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমির ম্যাচটি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, বাংলাদেশ এমন উইকেট বানিয়েছে যা পাকিস্তান আশাব্যঞ্জক ভাবেই চিন্তা করেছিল না — সে ছিল ‘‘সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন’’। মিরপুরে স্পিন উইকেট হবে বলে ধারণা ছিল, কিন্তু ঘাসে ঢাকা, বাউন্সি উইকেট করে বাংলাদেশ দ্রুত গতিপ্রবণ শর্ত তৈরী করেছে। এতে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা যথাযথভাবে মানিয়ে নিতে পারেনি।
আমির বলেন, ‘‘আমরা টার্নিং উইকেট ভাবছিলাম, কিন্তু ওরা গতির উইকেট বানিয়েছে। ঠিক যেন অ্যাসাইনমেন্টের বাইরে প্রশ্ন এসে গেল। আমাদের ব্যাটসম্যানেরা ১৪০ কিলোমিটারের ওপরে গতির বোলার দেখতে পেলে চিন্তা করে ফেলছে। নাহিদ রানা ও মেহেদী মিরাজ দুর্দান্ত বল করেছে—বিশেষ করে নাহিদ ১৪০-এর বেশি গতি করে।’’
পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পেছনে আমির অনুশীলনের অভাব ও নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকেই দায়ী করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তরুণ খেলোয়াড়দের অনেক ক্ষেত্রে টেকনিকগত দুর্বলতা আছে; তারা মিড উইকেটে খেলা ছাড়া অফ-স্টাম্পের বল বোঝে না। অনুশীলনের জায়গায় উপরের থেকে বল সরাসরি ছুড়ে দিলে সেটা হাতে খেলা নয় — আসল পেসের বিপরীতে খেলার জন্য সঠিক প্রস্তুতি দরকার।
নির্বাচনী নীতির সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘‘৫-৬ জন সিনিয়রকে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়েই দল রচনা করা ঠিক না। দলে সিনিয়র ও জুনিয়রের ভারসাম্য থাকতে হবে। আমরা এখন বাংলাদেশকেও হারতে শুরু করেছি—এটা দেখে আমি ভয় পাই, শেষ পর্যন্ত আমরা কি সহযোগী দেশে পরিণত হয়ে যাচ্ছি?’’ তিনি দাবি করেছেন যে কামরান গুলাম ও ইরফান খান নিয়াজির মতো পারফর্মাররা যথাযথ সুযোগ পাননি।
আমির আশা করছেন সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ একই ধরনের উইকেটই রাখতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘তারা আমাদের ওপর এমনভাবে ধাক্কা দিয়েছে—মনে হচ্ছিল ওরাও অনেক মজা পাচ্ছিল। যে উইকেটে আমরা ১১৪ করেছি, সেই উইকেটে ওরা ১০-১২ ওভারের মধ্যে—or বাস্তবে ১৫.১ ওভারেই—রান তাড়া করে ফেলেছে। আমি বলছি, বাংলাদেশ আপনাদের স্পিন ট্র্যাক দেবে না; তারা গতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে। তাদের তিনজন ফাস্ট বোলারই শক্তিশালী, যারা ১৩৫-১৪০ কিলোমিটারে বল করে, বিশেষ করে নাহিদ রানা। সিরিজ জিততে তারা এই সুযোগ কাজে লাগাবে।’’
এসব মন্তব্যের মাধ্যমে আমির পাকিস্তান দলের সমন্বয়, প্রস্তুতি ও নির্বাচনী নীতিকে প্রশ্ন করেছে। সামনে বাকি ম্যাচগুলোতে পাকিস্তান কীভাবে এই সমালোচনা ও সমস্যা মোকাবিলা করে—এটিই এখন দেখার বিষয়।




