ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৩শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিল বাংলাদেশ

দীর্ঘমেয়াদি তেলচুক্তির পাশাপাশি ভারত থেকে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানের আগ্রহ জানিয়েছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের অতিরিক্ত সরবরাহ চাওয়া হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে চলা আলোচনার পর আজ বুধবার জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেন। সরকার এবিষয়ে ভারতের কাছে একটি অফিসিয়াল চিঠি পাঠিয়েছে।

২০২৩ সালের মার্চে ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন উদ্বোধন করা হয়। পাইপলাইনের বাৎসরিক পরিবহনক্ষমতা প্রায় ২ লাখ টন হলেও বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী এই বছর প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল পরিবহনের কথা রয়েছে। বর্তমান বাস্তবায়নে মাসে আনুমানিক ১৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ হচ্ছে।

বৈঠকের পর জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আপৎকালীন অবস্থার জন্য আমরা আমাদের ডিজেল সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছি। এখন তারা সিদ্ধান্ত নেবে কতটা বাড়ানো সম্ভব।’ প্রণয় ভার্মাও জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে জ্বালানিসহায়তার আবেদন করেছে এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিটি পরবর্তীতে ভারত সরকারকে হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং কীভাবে তা আরও শক্তিশালী করা যায়—এসব দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গত রোববারও ঢাকায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার আলোচনায় মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে এটি আপৎকালীন চাহিদা মেটাতে তড়িঘড়ি নেওয়া যেতে পারে এমনই প্রস্তাব।

সরকার এবং ভারতীয় পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাইপলাইনের সক্ষমতা, চুক্তির শর্ত এবং সরবরাহ বৃদ্ধির সময়সূচি নিয়েও খুঁটিনাটি আলোচনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষ কবে এবং কতটা অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবে তা চূড়ান্ত হওয়া বাকি আছে।