ঢাকা | শনিবার | ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

৯ মার্চ দুটি তেলের ভেসেল আসছে: জ্বালানিমন্ত্রী

দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে মনে করছে সরকার। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, আগামী ৯ মার্চ একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ সেই দিনই দেশে আসবে দুটি তেলবাহী ভেসেল বা জাহাজ। তিনি এই তথ্য শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ কিছুটা উদ্বেগে রয়েছে, তবে সরকারের পক্ষ থেকে সব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনিশ্চয়তার মাঝেও তিনি আশ্বাস দেন, দেশে তেলপ্রাপ্যতা পর্যাপ্ত এবং কোন সংকট নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব আমাদের জ্বালানি খাতে দেখা যায়, তবে আমরা সচেতন রয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করেছি। আমি আবার বলছি, তেল নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।’’ তিনি জানান, সরকার সতর্কতার অংশ হিসেবে কিছু সময়ের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে এই রেশনিং দেখে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বেশি তেল স্টক করার চেষ্টা করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এসময় মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জনগণকে আশা দেন যে, তেলের কোনও অভাব নেই এবং নতুন করে আরও দুটি ভেসেল আসছে। সেই সঙ্গে তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান, যেন তারা আতঙ্কে না পড়ে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বারবার বলছেন, “অতিরিক্ত যানবাহন চালানোর বা অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নিয়মিত তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।’’ কেউ কেউ যদি তেল পাম্পে তেল না পায়, তাহলে তাদের জানানো হয়, সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে এবং পক্ষপাতমূলকভাবে কোনও পাম্প বেশি লাভের আশায় তেল বিক্রি বন্ধ করলে, তাদের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতোমধ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।’ একই সঙ্গে, তিনি এই মুহূর্তে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নিয়মনীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান।

বিশেষ করে, মোটরসাইকেল চালকদের জন্য দুই লিটার করে তেল দেওয়ার রেশনিং বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা এখন নেই বলেও জানান তিনি। তবে সরকার নিজস্ব মজুত সম্পদ দেখে সতর্ক থাকছে, কারণ যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা কেউ বলতে পারে না। তাই আগাম সঞ্চয় বা মজুতের ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হচ্ছে।

মানুষের মধ্যে আতঙ্কের কারণ কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এটি স্বাভাবিক মানবমনস্তত্ত্ব। ভবিষ্যতের অজানা আশঙ্কায় কেউ কেউ আগেভাগে তেলমজুতের চেষ্টা করেন।’’ একই সঙ্গে বলেন, ‘‘সরকারের বার্তায় অনেক সময় মানুষ প্যানিক করে, তবে এটা মানুষের সাধারণ আচরণ। পরে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’’

এলএনজি সরবরাহের ব্যাপারে জানিয়েছন, সরকার কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করে থাকলেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের জন্যও কাজ চলছে। এখন দেশে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি সম্পদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও সংকট এড়াতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

অবশেষে, মন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশবাসীকে আমি বলবো, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং জ্বালানি সচেতনভাবে ব্যবহার করতে হবে।’’ তিনি সবাইকে আহ্বান জানান যেন তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করে, আবেগে বা অকারণে অতিরিক্ত স্টক না করে।