ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতিতে বৈর্থ্য ও চ্যালেঞ্জসমূহ

নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে পাঁচ লাখ পরিবারকে মাসে ২ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা প্রদানের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, যা এই উদ্যোগের সফলতা প্রভাবিত করতে পারে। নাগরিক প্ল্যাটফর্ম মনে করে, এই কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দ সামুদ্রিক মোট আয়ের ০.১৫ থেকে ০.২০ শতাংশের কাছাকাছি হবে, যা সরকারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা তৈরি করতে পারে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিস্তার করা যাবে, যা ভবিষ্যতে একটি সর্বজনীন মৌলিক আয়ের কর্মকাণ্ডের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তবে, উপকারভোগীর নির্বাচন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, যদি এটি প্রথাগত প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পদ্ধতিতে করা হয়। এ জন্য বৈজ্ঞানিক ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিসুবিধা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি। এর মাধ্যমে প্রকৃত প্রয়োজনী মানুষরা উপকৃত হবেন এবং নির্বাচনী ইশতেহার রূপায়িত সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর এই কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা থাকলে, তা সময় উপযোগী হবে। কারণ, নির্বাচন আগে অপ্রতুল ডাটা ও দুর্নীতির ঝুঁকি থাকায় বিতরণে সমস্যা হতে পারে। তাই, একটু সময় নিয়ে সঠিক ডেটার ভিত্তিতে এই কর্মসূচি চালানো উত্তম।

অতিরিক্তভাবে এ ধরনের পরিকল্পনার লক্ষ্য রয়েছে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার, যেখানে ২০২৫ সালে জিডিপির আকার ছিল ৪৬২ বিলিয়ন ডলার। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে গড়ে ৯ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে, যা বর্তমানে খুবই উচ্চাভিলাষী তবে সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ২০২৫ সালে কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ৬.৮ শতাংশ, আর ২০২৬ সালে সেটা ৮.৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বাস্তবতা অনুসারে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে, কারণ প্রতি বছর প্রায় ০.৯ শতাংশ পয়েন্টের মতো উন্নতি দরকার। সঠিক সংস্কার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

সিপিডির তৌফিক ইসলাম উল্লেখ করেন, বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি উচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দরকার, যেখানে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকরী সংস্কার প্রধান ভূমিকা রাখবে। এর ফলে, এই উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।