ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আমরা ৫ বছর আমানতের চৌকিদার হতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান

বিগত দিনগুলির শাসকরা দেশের মালিক হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত থাকলেও জামায়াতে ইসলামী জনগণের সেবক ও চৌকিদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মানুষের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করার কোনও ইচ্ছে আমাদের নেই। যদি আপনাদের বিশ্বাস করে আপনারা আমাদের কাছে আমানত দেন, তাহলে আগামী পাঁচ বছর ধরে আমরা এই আমানত রক্ষা করতে চায়। স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা দেশের মালিক হবো না, বরং দায়িত্বের ধারক হিসেবে কাজ করবো।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ হাজী মো. এনায়েত উল্লাহর নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। এ জনসভার বিষয় ছিল ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং ডাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও আসনের আয়োজক আব্দুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যারা বলছেন, তারা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বেন, তারা আগে নিজরা সঠিক হন। বেছে বেছে ঋণখেলাপিদের নিয়ে নির্বাচন করা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা সম্ভব নয়। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যদি সত্যিই আগ্রহী হন, তাহলে ঋণখেলাপিদের বাদ দিন। তাদেরকে বাদ দিয়ে কাজ শুরু করলে জাতি আপনাদের কাছেও সম্মান দেখাবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, যে দল চাঁদা না পেলে নিজের দলের লোকদেরই হত্যা করে, সে দলের সঙ্গে দাঁড়ানো উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, আমরা এখন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি যে, অস্তিত্বের প্রশ্নে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আলোর পথে হাঁটব না তো অন্ধকারের দিকে যেতে হবে। আপনাদের কি পথ বেছে নেবেন?

যুবকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিচ্ছি না, বরং তাদের হাতে কাজ দেব, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারে। যুবকরাই আমাদের প্রেরণা ও শক্তি।

গণভোটের ব্যাপারে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতার পক্ষে, আর ‘না’ মানে দাসত্বের পক্ষে। আমাদের প্রত্যাশা, আমরা স্বাধীনতা চাই, গোলামি আমরা চাই না। ‘হ্যাঁ’ মানে নিপীড়িত ও মজলুমের পক্ষে, আর ‘না’ মানে শাসকশ্রেণির অত্যাচার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। ঘরে ঘরে আমরা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাবো। ইনশাআল্লাহ, ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হবে।

ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী হাজী মো. এনায়েত উল্লাহকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতারা বলেন, ওল্ড ইজ গোল্ড। যত পুরনো হয়, ততই খাঁটি হয়। আমরা পুরানে ঢাকাকে আধুনিক করব না, বরং গোল্ড বানাবো। আপনারা ভোট দিয়ে এনায়েত উল্লাহকে বিজয়ী করুন যেন পুরান ঢাকাকে আসল গোল্ডে রূপান্তর করা যায়।

বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান তার হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন এনায়েত উল্লাহর জন্য।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে সব দলের নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে প্রচারণা শেষ হবে।