ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে: তারেক রহমান

বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের সব ধরনের দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান। শনিবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে এক বিশাল সমাবেশে তিনি এই ঘোষণা দেন।

সমাবেশে তারেক বলেন, যে পরিকল্পনাই নেওয়া হোক না কেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না। অতীত অভিজ্ঞতায় বিএনপি প্রমাণ করেছে দুর্নীতির মোকাবিলা একমাত্র তাদের দ্বারা সম্ভব। এজন্য ক্ষমতায় এলে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির শিকড় নীচে করে দিতে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি কেবল কাগজে কথা বলে না—গতবার সরকারে থাকাকালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। আগামী দিনে জনগণ যদি তাদের পাশে থাকে, ইনশাআল্লাহ তারা কঠোরভাবে দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

তারেক সতর্ক করে বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে—সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’’ সমাবেশে তিনি চট্টগ্রামের মানুষকে নিরাপদ ও কল্যাণমুখী পরিবেশ নিশ্চিতের আক্ষেপও ব্যক্ত করেন এবং নগরীর নিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্ব প্রশ্নে দেন।

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে তারেক বলেন, জনতা যদি ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের রায়ে সরকার দায়িত্ব দিলে প্রতিটি স্তরে শিক্ষা পরিবর্তন করা হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলব যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেট নয়, স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যোগ্যতা পাবে।

স্বাস্থ্যখাতে তিনি বলেন, গ্রাম-গঞ্জে প্রত্যেক পরিবারের দরজায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। এজন্য প্রতি স্তরে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা আছে, যাতে মা-মেয়ে ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পেতে পারে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সুরক্ষার বিষয়ে তারেক বলেন, উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল কেটে ও নালা খোঁজার কর্মসূচি নেওয়া হবে—কারণ অনেক জায়গায় খাল-নালা বন্ধ হওয়ার ফলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করান, বিএনপির আমলে ইপিজেড গড়ে ওঠায় লাখো মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে আবার আনলে আরও ইপিজেড স্থাপন করে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।

পলোগ্রাউন্ড সমাবেশের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে এসেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, এরপর তিনি নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রাত্রিযাপন করেন এবং শনিবার সকালে তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। সমাবেশের পর তার পরিকল্পিত সফরে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পথসভা রয়েছে।

মহাসমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরী কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল; প্রায় দুই হাজার পুলিশ মোতায়েন করে মঞ্চসহ এলাকা তিন স্তরে—রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন; সে সময় তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেন ও লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তৃতা করেন।