ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

খুলনা-১ আসনে সুনীল শুভ রায়ের ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে জাতীয় সম্মিলিত জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সুনীল শুভ রায়। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

সুনীল শুভ রায় আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ইশতেহার ভিত্তি করে তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করতে চান। এটি খুলনায় প্রথমবারের মতো কোনও সংসদপ্রার্থী তার নিজ থেকে ইশতেহার প্রকাশ করলেন। এছাড়া, তিনি জানান, তিনি এবার মোট তিনটি প্রতীক পেয়েছেন—মোমবাতি, যা বাংলাদেশের ইসলামী ফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক। ইসলামী ফ্রন্টের অন্য কোন প্রার্থী না থাকায়, এই প্রতীকেই তিনি নির্বাচন করছেন বলে তিনি আরও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে ভিত্তি করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি করবেন। একই সঙ্গে, তিনি রাজনীতি থেকে বিরোধপূর্ণতা ও হিংসা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অতিরিক্ত দফাগুলির মধ্যে রয়েছে, দাকোপ ও বটিয়াঘাটার সব স্তরের জনগণের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা; সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, দখলদারিত্ব ও মাদক মুক্ত করতে সর্বদা অবদান রাখা; প্রশাসনকে সহযোগিতার মাধ্যমে এই এলাকাগুলোকে দস্যু, ডাকাত ও ছিনতাইমুক্ত করা; পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে নতুন শিল্পের প্রবেশের জন্য বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা; যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে পানখালী ও পোদ্দারগঞ্জে সেতু নির্মাণ; নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান ও খনন কাজ করা; গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের জন্য বাসস্থান সৃষ্টি; নদী বা খাল খনন ও ব্যবহারে কৃষি সেচের সুবিধা বাড়ানো; রাস্তা-সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কার; পানীয় জলের জন্য আবাসিক পানি সরবরাহ প্রকল্প; শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকাটির জীবনমান উন্নত করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এছাড়া, তিনি সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকীকরণ ও উন্নত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রত্যেক ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, অবিচল দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, ও জনতার সরাসরি অংশগ্রহণে সরকারের কার্যক্রমে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি ও জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সুনীল শুভ রায় আরও বলেন, আমার জন্য কিছু চাওয়া-পাওয়া নেই। অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শেখার প্রয়োজন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার জাতীয় পার্টি (রওশন) ও এর অঙ্গসংঘঠনের নেতৃবৃন্দ।