ঢাকা | সোমবার | ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

লেবানন প্রেসিডেন্টের সেনাবাহিনীকে ইসরায়েল মোকাবেলার নির্দেশ

লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, ইসরায়েলি আক্রমণের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে লড়াই করতে হবে। এই নির্দেশ দেয়া হলো এমন পরিস্থিতিতে, যখন যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। এটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রথমবারের মতো এমন কঠোর নির্দেশনা দিলেন প্রেসিডেন্ট আউন। বুধবার রাতে, দক্ষিণ লেবাননের ব্লিদা শহরে একটি পৌরসভা ভবনে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়ে একজন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যা করে। এরই প্রতিক্রিয়ায়, লেবাননের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আউন ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি ‘ইসরায়েলি আগ্রাসনের ধারাবাহিক প্যাটার্নের’ একটি অংশ। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বেসামরিক অবকাঠামোর আড়ালে থাকা ওই পৌরসভা ভবনটি হিজবুল্লাহর কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। একই সময়ে, হিজবুল্লাহ তাদের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলি আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আউনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা এ বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। গত আগস্ট মাসে, লেবাননের আরব-সমর্থিত সরকার সমস্ত অস্ত্রের সরকারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করে। যদিও হিজবুল্লাহ এই পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দক্ষিণাঞ্চলে দখলকৃত পাঁচটি সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার ছাড়া তারা নিজেদের অস্ত্র সরিয়ে নেবে না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়মিত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবাননে ইসরায়েলে পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরু হলে, এখনও পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২۴ সালের নভেম্বরের মধ্যে হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কথা ছিল, তবে তারা কেবল অর্ধেক প্রত্যাহার করে নেয় এবং সীমান্তের পাঁচটি চৌকিতে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।