ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নাহিদ ইসলাম: পিআর আন্দোলন ছিল কৌশলগত প্রতারণা, জামায়াত সংস্কার চায়নি

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর আন্দোলন ছিল এক কৌশলগত রাজনৈতিক প্রতারণা। এই আন্দোলন ইচ্ছাকৃতভাবে পরিকল্পিত হয়েছিল ঐক্যমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করতে এবং সংলাপের মূল আলোচনাগুলো থেকে জনমতকে সরিয়ে দিতে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র ও সংবিধান পুনর্গঠনের প্রশ্নগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলা, যাতে আলোচনা সেদিক থেকে বাঁক নেয় না। তিনি রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ উল্লেখ করেন, ঝুকি সৃষ্টির জন্য শুরু হয়েছিল এই ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ আন্দোলন, যা মূলত জামায়াতে ইসলামীর পরিকল্পিত কৌশল ছিল। তিনি বলেন, উদ্দেশ্য ছিল ঐক্যমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্তি ও বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দেওয়া, যাতে জাতীয় সংলাপের মূল বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, ভোটের ভিত্তিতে উচ্চতর সংসদীয় ইউনিট বা সেকেন্ড হাউস প্রতিষ্ঠার দাবির পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল সাংবিধানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই সংস্কার ঘিরে ঐক্যমত্য তৈরির মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল জাতীয় ভিত্তির জন্য আমরা কাজ করতে চেয়েছিলাম।

তবে, জামায়াত ও তার সহযোগীরা এই সংস্কার আন্দোলনকে ছিনতাই করে নেয় এবং এটিকে একটি প্রযুক্তিগত পিআর ইস্যুতে রূপান্তর করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। তাদের লক্ষ্য কখনোই সংস্কার প্রবলভাবে সমর্থন করা নয়, বরং কৌশলে প্রপাগান্ডা ও অন্যায় অপব্যবহার।

নাহিদ জানান, জামায়াতে ইসলামি কখনোই সংস্কার বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেয়নি, সেভাবে কোনো গঠনমূলক প্রস্তাব রাখেনি অথবা সাংবিধানিক ধারাগুলোর প্রতি আন্তরিক ছিল না। তারা কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেনি।

তিনি বলেন, ঐক্যমত্য কমিশনে তাদের অপ্রত্যাশিত সংস্কার সমর্থন ছিল বিশ্বাসের সুযোগ না, বরং একটি কৌশলগত অনুপ্রবেশ। এতে তারা সংস্কারে রঙ ধরে রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত চালানোর চেষ্টা করে। আজ বাংলাদেশের মানুষ এই প্রতারণা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছে, চোখে দেখছে ভিন্ন দৃষ্টিতে। তারা সত্যের পথে উদ্দীপ্ত হয়ে আর কখনো ধোঁকা খাবেন না। আল্লাহর রহমত, এই দেশের সার্বভৌম জনগণ আর কখনো নেক্কার শক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে দেবে না। তারা বিশ্বাস করে, সত্য ও ন্যায়ের জয় হোক, আর এই দেশের জনগণ নিরাপদ থাকুক।