ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

শ্লীলতাহানির চেষ্টা: নারীর আত্মরক্ষায় কুপিয়ে নিহত একাধিক মামলার আসামি

যশোর শহরে এক নারীর আত্মরক্ষায় কুপিয়ে একাধিক মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে বুধবার গভীর রাতে; গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোরে নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় পৌঁছালে তিনি মারা যান।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. জিতু (৩৫)। তিনি যশোরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় জিতুকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানায়। কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকাগামী পথে নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় যাওয়ার সময় জিতুর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শুকরান বেগম (৫২) ও তার ছেলে সুমন হোসেন (২৮)। তারা বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে থাকা শুকরান বেগম অভিযোগ করেছেন, ঘটনার রাতে জিতু তাদের বাড়িতে জোরপূর্বক ঢুকে তাদের ছেলের কাছে চাঁদের টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়াায় জিতু ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমনকে আঘাত করে। ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে ঘরের ভেতরে জিতু যদি পুত্রবধূকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে ঘরে থাকা একটি দা দিয়ে জিতুকে আঘাত করা হয়—এমনটাই তার দাবি।

জিতুর স্বজন হাসিনা বানু বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল; কিন্তু নড়াইল পৌঁছানোর আগে তিনি মারা যান। পরে মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, জিতু কয়েকটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।