নয়াদিল্লি উত্তাল হয়ে উঠেছে—ফেসবুকভিত্তিক ব্যাঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্তত ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশন বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিএমআরসির এক্স (টুইটার) পোস্ট অনুযায়ী বন্ধ রাখা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম। তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু রাখা হয়েছে বলে ডিএমআরসি জানিয়েছে।
পটভূমি—সিজেপি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভের ডাক দেয়। সোমবারের মতো আবারও হাজারো সমর্থক রাজধানীতে সমবেত হওয়ায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি তোলা হয়েছে এবং মেট্রো সার্ভিসে বিরাম আনা হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভের সময় উত্তেজনা বাড়ায় বিরোধী নেতারা সরব হন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শুক্রবারে নয়, মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভরত অবস্থায় গ্রেপ্তার হন—পরে কার্যালয় সূত্রে এবং পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তাকে আটক করে। একই সময়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কর্পোরেট নেতা সহ কয়েকজনকেও আটক করা হয়। পরে রাতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; সাবেক কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করতে থানায় যান।
আটক অবস্থায় রাহুল গান্ধী একটি ভিডিও বিবৃতি দেন এবং কেন্দ্রকে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। ওই দাবিগুলোতে রয়েছে—শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, বিক্ষোভ দমনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা। রাহুল সরকারকে ছাত্রছাত্রীদের শোষণের জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
ঘটনার আবহে ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্ররা ও পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজপথে উপস্থিতি বাড়ায়। পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল—ডিএমআরসি জানিয়েছে স্টেশনগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং নিরাপত্তাজনিত বিবেচনায় যাত্রীদের বিকল্প রুটের পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি




