ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

স্যুটকেসে মডেল নাতালিয়ার মরদেহ, ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেপ্তার

কলম্বিয়ার একটি অত্যন্ত অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জনপ্রিয় মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার নাতালিয়া ভিয়ালবারের (৩৬) মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। ঘটনায় পুলিশ নিশ্চিত করেছে, মৃতদেহটি একটি স্যুটকেসের ভেতরে রাখা ছিল। নাতালিয়া গত ৩ জুন থেকে রাজধানী বোগোটার উত্তরের এল চিকো এলাকার ওই অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন।

স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাতালিয়াকে ২১ জুন ওই ঠিকানায় থেকে চেক-আউট করার কথা ছিল। কিন্তু পরের দিন (২২ জুন) স্যুটকেসে ভরা একদেহ দেখতে পান পরিচ্ছন্নতাকর্মী, এরপরই পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তে ৪৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক ম্যাথিউ অ্যাশলি ফস্টার-স্মিথকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ২৬ জুন জানায়, ফস্টার-স্মিথকে নারী হত্যা (ফেমিসাইড) ও প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রাথমিক জেরায় পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে নাতালিয়া একা থাকা অবস্থায় ফস্টার-স্মিথ তার অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন, তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ স্যুটকেসে ভরে ঘটনাস্থল আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলও বিকৃত করা হয়েছিল।

সন্দেহভাজনকে ধরতে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলো যৌথ অভিযান চালায়। বোগোটার মেয়র কার্লোস এফ. গালান জানান, ফস্টার-স্মিথকে ২৬ জুন ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ফস্টার-স্মিথ হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঘটনার সময় তিনি ইংল্যান্ডে ছিলেন, একটি ফুটবল ম্যাচ দেখেছেন, এরপর শপিং সেন্টারে গিয়েছিলেন, আইসক্রিম খেয়েছিলেন এবং পুনরায় খেলা দেখতে ফিরে গিয়েছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর তার পুরনো অপরাধের তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে। বিবিসি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে অনুসরণ ও হয়রানির (স্টকিং) অভিযোগে তিনি দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করেছেন। মুক্তি পাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে একটি হয়রানি প্রতিরোধ আদেশ জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করা ও নিজের ঠিকানা ও ব্যবহৃত যানবাহনের তথ্য নিয়মিত পুলিশকে জানানোর শর্ত ছিল।

তদন্ত এখনও চলমান; কর্তৃপক্ষ হঠাৎ হত্যার উদ্দেশ্য বা ঘটনার সমস্ত বিবরণ প্রকাশ করেনি। এই ঘটনায় কলম্বিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা, বিশেষত বিদেশি নাগরিক ও স্বল্পমেয়াদি ভাড়া ঠিকানার নিরাপত্তা নিয়ে নয়া উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রতিবেদন তৈরি করতে মিরর ইউএস ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে।