ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

রেকর্ড: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে এসেছে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স

সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড সংখ্যক রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার (১ জুলাই) প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়েছে, পুরো অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলারের সমান। এটি দেশের ইতিহাসে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

গত অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেছে, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের দৃঢ় অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠালে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসার প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে এ অর্থবছরে বৈধ রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে জুন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা মন্দা দেখা গেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং গত বছরের জুনের তুলনায়ও কিছুটা কম। বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ব্যাংক ছুটির কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি; ফলে চূড়ান্ত ফলাফলে এই অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে।

বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীরা পরিবারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠান; ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে গেলে জুনে স্বাভাবিকভাবে রেমিট্যান্সে নিম্নগতি দেখা গেছে।

মাসভিত্তিক আঙ্কার বিবরণে দেখা যায়: জুলাইতে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ, জান্যুয়ারি ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ, ফেব্রুয়ারি ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ, এপ্রিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ, মে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার এসেছে।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানির ধারাবাহিক বৃদ্ধির প্রভাব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ধরা পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মোট গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফ-বিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।