ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ছেলেকে ছুরি মেরেছিল, আমাকেও হত্যা করতে চেয়েছিল: সাইফ আলী খান

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান খুলে বললেন ২০২৫ সালের জানুয়ারির ওই ভয়াবহ রাতের ঘটনা। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় তার বাসভবনে ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাতের কাহিনি সম্পর্কে আস্তে-আস্তে তিনি নিজের অনুভূতি ও ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন।

সাইফ জানান, ঘটার রাতে তাদের ঘরের আয়া দারুণভাবে আতঙ্কিত হয়ে ছুটে এসে বলেছিল যে ছোট ছেলে জাহাঙ্গীরের (সংক্ষেপে জেহ) ঘরে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিত্ব ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে টাকা দাবি করছে। তিনি দৌড়ে জেহর ঘরে গেয়ে দেখেন এক ব্যক্তি শিশুটিকে ধরে রেখেছে। হামলাকারী প্রথমে জেহকেই আঘাত করে, তারপর তাদের গৃহকর্মীকে এবং অবশেষে সাইফকেও নিশানা করে।

অভিনেতা বলেন, ‘‘আমি ছুটে গিয়েছিলাম—সে আমার ছেলেকে ধরে রেখেছিল। আমার ছেলেকে ছুরি মেরেছিল, জেহের সামান্য কেটে গিয়েছিল। আমাদের একজন গৃহকর্মীকেও আঘাত করা হয়েছিল।’’ সাইফ আরও জানান, তিনি পরিস্থিতি শান্তভাবে ভেঙে আলো জ্বালিয়ে কথা বললে হয়তো সবকিছু অন্যরকম হত, কিন্তু তখন তাঁর ভিতরে এমন একটি তৎপরতা কাজ করছিল যে তিনি হামলাকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সাইফ বলেন, ‘‘সে উন্মত্তের মতো ছুরি চালাচ্ছিল—চারদিকে শুধু রক্ত।’’ ঠিক তখনই আরেক গৃহকর্মী এসে তাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।

সাইফ ছয়বার ছুরিকাঘাত পান;其中 একটি আঘাত মেরুদণ্ডের খুব কাছ দিয়ে যায়। তিনি স্মরণ করে বলেন, ‘‘সাদা কুর্তা-পায়জামা পরেছিলাম, পুরো পোশাক রক্তে ভিজে গিয়েছে। একসময় মেঝেতে পড়ে ছিলাম—মনে হচ্ছিল হয়তো আর বাঁচবো না।’’

ঘটনার পরে সাইফ হাসপাতালে যাওয়ার সময় বড় ছেলে তৈমুরও সাথে ছিল। তৈমুর তার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘‘তুমি কি মারা যাবে?’’ সাইফ তাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন না, এবং তাঁরা একসঙ্গে হাসপাতালে যান।

হামলাকারীকে ক্ষমা করা যাবে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে সাইফ বলেন, তিনি চেয়েছিলেন ক্ষমা করতে। ‘‘আমার মনে হয় সে জীবনে বড় একটি ভুল করেছে। সম্ভবত সে মারামারি করতে এসেছে না। তাকে ক্ষমা করতে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু যে মুহূর্তে সে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল, সেটি আমি ভুলতে পারিনি,’’ তিনি জানান। এছাড়া সাইফ মনে করেন সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্যও এ ধরনের ঘটনার পেছনে একটি বড় কারণ।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফ আলী খানের বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার তিন দিন পর মুম্বাই পুলিশ টানেতে এলাকা থেকে অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। (সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস)