ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

রাজ কাপুর ও দিলিপ কুমারের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে পড়ার শঙ্কা

বলিউডের দুই প্রতিমা—রাজ কাপুর ও দিলিপ কুমারের শিকড় পাকিস্তানের পেশোয়ারে। যদিও তারা আর নেই, তবুও দু’টি ঐতিহাসিক বাড়ি সেখানে দাগ রেখে আছে। তবে সরকারের অনিয়মিত নজরদারি ও সংস্কারের অভাবে সেগুলি এখন ভেঙে পড়ার পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, বলছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৪–৫ বছরে দুই বাড়িই সরকারি রক্ষণাবেক্ষণের বাইরে পড়ে আছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঝড়বৃষ্টি বাড়িগুলোর পুরোনো কাঠামো আরও দুর্বল করে দিয়েছে; সাম্প্রতিক ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে। ফলে দেওয়াল ফেটে যাওয়া, ছাদের বিড়িভাগ হওয়া এবং ভেতরে ঢুকতে দেয় এমন দুর্বল অবস্থা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বাড়িগুলোর আনাচকানাচে আগাছা গজিয়েছে, জমে আছে আবর্জনা, এবং দেয়ালগুলোতে স্তরের ফাটল দেখা যায়—সব মিলিয়ে অপর্যাপ্ত যত্ন যে কখনোই বড় ধরনের ধস নামাবে না এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেকেই মনে করেন, যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই এসব নিদর্শন মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

পাকিস্তান সরকার ২০১৬ সালে এই দুই বাড়িকে ‘জাতীয় ঐতিহ্য’ হিসাবে ঘোষণা করেছিল। পরে দুই দফায় অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা এসেছে। ২০২১–২২ সালে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার বাড়িগুলো কিনে সেগুলো মিউজিয়ামে পরিণত করার উদ্দেশ্যে ২.৩৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি বরাদ্দ করেছিল। আরও এক ধাপে, ২০২৫ সালের জুলাইয়েও প্রাদেশিক সরকার ঐতিহাসিক ভবনগুলোর পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের জন্য ৩৩.৮ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি অনুমোদন করে।

তবু বাস্তবে বাড়িগুলোর অবস্থা বদলায়নি। সরকার জানিয়েছে যে সংরক্ষণের জন্য অনুদান অনুমোদন হওয়া সত্ত্বেও সেই অর্থ এখনও হাতে এসে পৌঁছায়নি, ফলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।

রাজ কাপুরের বাড়িটি খাওয়ানি বাজার এলাকায়; এটি ১৯১৮ সালে তাঁর পিতামহ দেওয়ান বিশ্বেশ্বরনাথ কপূর নির্মাণ করেছিলেন এবং রাজ কাপুরের জন্মও ওই বাড়িতেই। দিলিপ কুমারের বাড়িটি মহল্লা খুদাদত অঞ্চলে, পেশোয়ারি আর্কিটেকচারে নির্মিত—একসময় উভয় বাড়িই জাঁকজমকপূর্ণ ও প্রাণবন্ত ছিল।

ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে এই দু’টি বাড়ি সংরক্ষণ করা না হলে না শুধুমাত্র স্থাপত্যিক মূল্য নষ্ট হবে, বরং দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র ঐতিহ্যের একটি অমূল্য অধ্যায়ও হারিয়ে যাবে—মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়রা সরকারের কাছে দ্রুত তহবিল রিলিজ করে জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।