ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শার্শায় কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান আসামি রাব্বি ইসলাম আটক

যশোরের শার্শায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি রাব্বি ইসলাম (২০)কে পুলিশ ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে।

রাতভর চলা অভিযানের পর শুক্রবার (১৫ মে) শার্শা থানাধীন ফুলসর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। রাব্বি ওই উপজেলার ফুলসর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কেশবপুর উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামের বাসিন্দা সোনিয়া বেগম (৩৮) গত ১৪ মে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি জানান, তাঁর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (১৭)কে পরিকল্পনা করে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ২টা ৪৭ মিনিট থেকে রাত ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এবং পরের দিন ২১ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় অভিযুক্ত রাব্বি ইসলাম শার্শা থানাধীন স্বরূপদাহ গ্রামের রুস্তম আলীর বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি শয়নকক্ষে কিশোরীকে ডেকে নিয়ে সেখানে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই ভুক্তভোগী কিশোরী মানসিক চাপ ও লজ্জার কারণে দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে মেয়ে থেকে পুরো ঘটনা জানার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মা আইনের আশ্রয় নেন ও থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযোগ প্রাপ্তি পর শার্শা থানা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে। যশোর জেলার পুলিশ সুপার মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তৎপর হওয়ার জন্য বলেছিলেন।

শার্শা থানা অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) শেখ আল আমিনসহ পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্ষেত্রসমীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। রাতভর তল্লাশি ও অনুসন্ধানের পর রব্বি ইসলামকে ফুলসর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ এ ধরনের অপরাধ দমনে সব ধরনের উদ্যোগ চালিয়ে যাবে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।