ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ব্যাংক লুটপাটের দায়ে ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর নাম

বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রতিবেদনে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২৮টি ব্যাংকের বড় ধরণের ক্ষতির পেছনে ছয় ব্যক্তি ও কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী দায়ী। প্রতিবেদনে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, নাসা গ্রুপের নামসহ সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সিকদার পরিবারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণের সূত্রে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের ফলে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত অথব অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকসহ শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক, সিআইবিএল (SIBL), ফার্স্ট সিকিউরিটি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের ইউসিবি, আইএফআইসি ও ন্যাশনাল ব্যাংকও এই লুটপাটের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সময়ের চাপ ও বিভিন্ন বাহ্যিক ঝুকির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু সংস্থাকে অনৈতিক সুবিধা দিতে বাধ্য হয়েছিল। এরপরও এখন পাচারের অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কিছু ক্ষেত্রে বহিরাগত চাপ ছিল এবং এমনকি রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায় থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক অগ্রাহ্য করতে পারত না।

বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, শুধু টাকা ফেরানোই যথেষ্ট নয়—দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে অনিয়মে জড়িত ছিলেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। নেই হলে দেশের সাধারণ মানুষের ব্যাংকে আস্থা আরো বাড়বে না বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, একজন কর্পোরেট দরিদ্র কতটা ঋণ নিতে পারে, কত দিন বা কী শর্তে নিতে পারে—এসবই নীতিমালায় নির্দিষ্ট। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক জেনে শুনে এসব সংস্থাকে ছাড়পত্র বা ছাড় দিয়ে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। এটি তাদের দায়িত্ব ছাড়া আর কেউই করতে পারে না।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক পাচারের অর্থ উদ্ধার ও ফিরিয়ে আনার কাজ জোরদার করেছে। সম্পাদকীয় ও বিশ্লেষকরা বলছে, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা না হলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের বিশ্বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।