ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আস্থাভোটে জয়ী মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভায় অনুষ্ঠিত আস্থাভোটে জয়ী হয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান পাকা করেছেন থালাপতি বিজয়। বুধবারের ভোটে ১৪৪ জন বিধায়ক তার পক্ষে ভোট দেন; বিপক্ষে পড়েছে ২২টি, আর পাঁচজন ভোটদানে বিরত ছিলেন।

গত মাসের নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে রাজ্যের দীর্ঘদিনের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি ডিএমকে ও এআইএডিএমকের ৬২ বছরের আধিপত্য ভাঙে। এই প্রেক্ষাপটে আস্থা ভোটে বিজয়ের সফলতাই টিভিকের রাজনৈতিক জয়ের শেষ পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফল ঘোষণার পর বিজয় বলেন, ‘হুইসেল ইতিহাস বদলে দিয়েছে।’ টিভিকের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘হুইসেল’, যা দলের জয়ের প্রতীক হিসেবে জনমনে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু সরকার বলব। আমরা এমন এক সরকার, যা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করবে।”

ভোটাভুটির আগে ডিএমকে তাদের ৫৯ জন বিধায়ক নিয়ে ওয়াকআউট করে। অন্যদিকে এআইএডিএমকের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেয়; তবুও দলের ভেতর থেকে বড় অঙ্কের বিদ্রোহ দেখা গেছে।

এআইএডিএমকের ২৪ জন বিধায়ক দলীয় প্রধান ইডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর নির্দেশ অমান্য করে বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন, যা দলটিতে গভীর বিভাজন ও ভাঙনের ইঙ্গিত প্রকাশ করে। এই বিদ্রোহী অংশটির নেতৃত্বে ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানি; তাদের কয়েকজন নেতা পুদুচেরির একটি রিসোর্টে অবস্থান নিয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও টিভিকে সমর্থন নিয়ে আলোচনা চালিয়েছিলেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

শানমুগাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনবার ডিএমকের কাছে ও সর্বশেষ টিভিকের কাছে টানা চারটি নির্বাচনী পরাজয় দলের বর্তমান অবস্থাকে সংকটময় করে তুলেছে।’ তিনি দাবি করেছেন যে দলের ভাঙার কোনো ইচ্ছা নেই, কিন্তু এখন এটি নতুন ক্ষমতার লড়াইয়ের অধ্যায় সূচিত করছে।

অন্য দিকে এআইএডিএমকে বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে দলটি অভিযোগ করেছে যে শানমুগাম, ভেলুমানি ও অন্যান্য বিদ্রোহী নেতারা টিভিকের কাছে মন্ত্রীত্বের পদ চেয়েছিলেন।

আস্থা ভোটের এই ফল ও দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের প্রেক্ষিতে তামিলনাাড়ুর রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিক নির্দেশনার অপেক্ষা শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এসব ফ্র্যাকচারের রাজনৈতিক ফলাফল রাজ্য রাজনীতির গতিপথকে আরও স্পষ্ট করবে।