ঢাকা | সোমবার | ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জ্বালানি সংকটের ভয়ে স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বাড়ছে

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দিতে ঝুঁকছে না—এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিসিআই সভাপতি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই অনেক ক্রেতা অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও দেশের জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টের জন্য যেসব ক্রয়াদেশ শিডিউল করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকটাই ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বড় কিছু আন্তর্জাতিক ক্রেতা নেগেটিভ সিগনাল দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ইতোমধ্যে ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাদের ঢাকায় অবস্থিত অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দিতে পিছু হটছেন, যা তৈরি পোশাক খাত ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়কে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে।

অন্যদিকে বর্তমান কর কাঠামোও ব্যবসার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। লাভ-ক্ষতির পরোয়া না করে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বিশেষত ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হয়, ফলে তাদের জীবিকা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

বিসিআই সভাপতি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয় থেকে কর্তন (উৎস কর) কমানোর অনুরোধ জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন বলে সংবাদে বলা হয়েছে।

এ ছাড়াও আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বলেন, কর যাচাইয়ের নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অসীম ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং এটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করার দাবি উত্থাপন করে। তারা করের বোঝা বাড়িয়ে ব্যবসাকে সংকীর্ণ করার বদলে একটি সহায়ক ও বন্ধুমুখী কর ব্যবস্থা গড়ার পরামর্শ দিয়েছে।

শিল্প-উদ্যোক্তারা বলছেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ করা না হয়, তবে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। সময়োপযোগী উদ্যোগ না নিলে পোশাক খাতসহ রপ্তানি নির্ভর শিল্পগুলোর ওপর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া বাড়বে—এমন সতর্কতা তারা দিয়েছেন।