ঢাকা | সোমবার | ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মুক্তিযুদ্ধের চিত্রধারী আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই

ভারতের কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই। রবিবার (২৬ আর্থ এপ্রিল) ভোরে দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রঘু রাইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর পুত্র এবং প্রসিদ্ধ আলোকচিত্রী নীতিন রাই, সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে। নীতিন জানিয়েছেন, গত দুই বছর ধরে তার বাবা ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। প্রথমে প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়লেও তা তিনি জয় করেছিলেন; পরে পাকস্থলীতে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে সেখানেও চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার প্রাথমিক সাড়া দেখেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত সাম্প্রতিক সময়ে ক্যান্সার মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং বয়সজনিত জটিলতাও দেখা দেয়।

রঘু রাই ছিলেন কেবল একজন আলোকচিত্রী নন—তিনি আধুনিক ভারতের জীবন্ত দলিল। তাঁর ক্যামেরার চোখে ধরা পড়েছে দেশের দারিদ্র্য ও বৈভব, রাজনৈতিক উত্থান-পতন এবং সাধারণ মানুষের অননুকরণীয় জীবনের আলোকচিত্র। ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডি থেকে শুরু করে মাদার তেরেসার কাজ—এ সব মুহূর্ত তিনি এমন এক সংবেদনশীলতায় ধরেছেন যে তা কেবল সংবাদই নয়, যুগান্তকারী ইতিহাস হয়ে উঠেছে।

রঘু রাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বাস্তবতা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেন। তিনি তখন ‘‘দি স্টেটসম্যান’’ পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে প্রবেশ করে আশ্রয় শিবির, মুক্তিযোদ্ধাদের দৃশ্য, যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ—এসব প্রত্যক্ষ করে ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। তাঁর তোলা ছবিগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অমূল্য দলিল হয়ে আছে।

রঘু রাইয়ের প্রয়াণে ভারতের সাংবাদিকতা ও শিল্পজগত গভীরভাবে শোকাহত। শিল্পী হিসেবে তাঁর অগ্রণীয় অবদান, সত্য ধরা তার ক্যামেরার ভাষা এবং মানবতা‑ভিত্তিক গল্প বলার ভঙ্গি বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে অনেকেই মনে করেন।

তাঁকে রেখে গেছেন স্ত্রী গুরমিত, পুত্র নীতিন এবং তিন কন্যা—লগন, অবনী ও পূর্বা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রঘু রাইয়ের শেষকৃত্য আজ বিকেল ৪টায় দিল্লির লোধি শ্মশানে সম্পন্ন হবে।

রঘু রাইয়ের শিল্প ও জীবনকীর্তি শুধু আলোকচিত্রের জগৎকে সমৃদ্ধ করেনি, বরং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে আগামীর জন্য সংরক্ষণ করেছে। তাঁর লেন্সের জাদু আগামী অনেক বছর প্রতিবেদনকারি ও আলোকচিত্রশিল্পীদের পথ দেখিয়ে যাবে।