ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর আরোপিত টোল থেকে সংগৃহীত প্রথম অর্থ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। খবরটি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ প্রকাশ করেছে।
ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবেই বলেছেন, ‘হরমুজ থেকে পাওয়া টোলের প্রথম অর্থ ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংকে ঢুকেছে।’ თუმცა তিনি কীভাবে এই রাজস্ব সংগ্রহ করা হয়েছে বা কারা তা পরিশোধ করেছে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেননি।
আরেক শীর্ষ সংসদ সদস্য আলিরেজা সালিমিও তাসনিমকে বলেছেন যে তিনি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে শুনেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো থেকে টোল আদায় শুরু করেছে। তিনি জানিয়েছেন, জাহাজগুলো থেকে সংগৃহীত রাজস্বের পরিমান ভিন্ন হতে পারে—এটি নির্ভর করে পণ্যের ধরন, পরিমাণ এবং বহন করা ঝুঁকির মাত্রার ওপর। এছাড়া, কীভাবে ও কী পরিমাণে টোল আদায় হবে, তা নির্ধারণ করার নিয়মও ইরানই ঠিক করে।
তেহরানের ঘোষণার আগে থেকেই বিষয়টি আলোচ্য ছিল। ইরান জানিয়েছিল তারা কেবল ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর জাহাজকে হরমুজে চলাচলের অনুমতি দেবে এবং প্রতি জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার টোল নেওয়া হবে—তবে তখন স্পষ্ট করা হয়নি কারা এবং কীভাবে এই টোল দেবে বা আদায় করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার পাশাপাশি এই টোল সংগ্রহ নিয়ে কড়া বক্তব্যও পাওয়া গেছে। মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১২ এপ্রিল তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে এবং relevant কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা এমন প্রতিটি জাহাজকে শনাক্ত করে আটক করতে, যেগুলো ইরানকে টোল দিয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে ‘যে অবৈধ টোল দেবে, গভীর সমুদ্রে তার যাত্রা নিরাপদ হবে না।’
কীভাবে টোল আদায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথ ও বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়বে—এসব প্রশ্ন এখনই তীব্রভাবে উদিত হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বিস্তারিত না দেয়ায় আন্তর্জাতিক সমাজ এবং বাণিজ্য অংশীদাররা আরও স্পষ্টতা আশা করছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ, বিবিসি




