ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সরকার ভুল করলে_reserved নারী এমপিরাও মোকাবিলার অংশ হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে পরিচালিত হয় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও অন্যান্য বিরোধীদলীয় সদস্যদের মতো সমানভাবে সোচ্চার হবেন। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

আযাদ বলেন, দল একটি সমন্বিত (কম্বাইন) তালিকা হিসেবে ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র সাবমিট করেছে এবং তাদের আশা ওই ১৩ আসনে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবে না। ‘‘এই ১৩টি আসন ১৩টি তালিকার ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা; আমরা আশা করি সেভাবেই নির্বাচনের ফলাফল আসবে,’’ তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলাপও হয়েছে। যেহেতু সংসদ বিধানকৃতভাবে চলছে, মনোনীতরা যদি সময়নিষ্ঠভাবে সংসদে যোগ দেন, তাহলে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ও জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ হবে। সেই জন্য কমিশন যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বা ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে—এই বিশ্বাস তাদের রয়েছে এবং কমিশনও আশ্বস্ত করেছে বলে আযাদ জানান।

জামায়াত আশা করছে মনোনীত ওই ১৩ নারী সদস্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন। আযাদ বলেন, ‘‘দেশ, জাতি ও জনগণের সার্থে আইন প্রণয়নসহ সব ক্ষেত্রে নারীরা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের সব সুবিধা ও ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন; সংবিধান তাদের এ সুযোগ দিয়েছে।’’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংরক্ষিত নারী আসনের ১৩ জন মনোনীত প্রতীক বিরোধীদলের কাতারে থেকে দেশ গঠনে ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

পার্থক্যহীন নীতিগত অবস্থানের কথাও তুলে ধরে আযাদ বলেন, ‘‘পার্লামেন্টে আমাদের যে ভূমিকা ও নীতি আমরা প্রকাশ করেছি, তা ন্যায়সম্মত, জনকল্যাণমুখী এবং দেশের স্বার্থে জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক রাখতে উদ্দীপ্ত। এটা আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামের আমির, প্রথম থেকেই ঘোষণা করেছেন।’’

সরকার যদি অন্যায় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, সে পরিস্থিতিতেও বিরোধীদলীয় অন্যান্য সদস্যদের মতো নারীরা সক্রিয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাড়া দেবেন—এমনটাই জানান তিনি। আযাদ বলেন, ‘‘৭৭ জনের সঙ্গে ১৩ জন যুক্ত হলে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসাথে ভূমিকা পালন করবে—এই প্রত্যাশা আমরা রাখছি।’’

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা রয়েছে। এটি না হওয়ার কারণে আমরা ১১ দল একসঙ্গে সরকারের জনরায় উপেক্ষা করার কাজের প্রতিবাদ ও অন্যায় কার্যাবলীর বিরোধিতা করে পার্লামেন্টে রোল প্লে করেছি এবং পার্লামেন্টের বাইরেও রাজপথে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি; ভবিষ্যতেও সচেতন ভূমিকা রাখব।’’

মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে আযাদ বলেন, জামায়াতে ‘‘এক পরিবারের দুই সংসদ সদস্য’’ নীতি না থাকার কারণে দলের আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। বরং শহীদ পরিবারের এক মাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এছাড়া মনোনীতরা সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ অন্যান্য পেশাজীবীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়েছে।

এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনের সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন তিন বছর পূর্ণ হয়নি এমন শর্তে প্রার্থিতা বাতিল হবে কি না—এই আলোচনায় আযাদ বলেন, তার আশা মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না।

তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল; আপিল ২৬ এপ্রিল; আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল; প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল; প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল; এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।