ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৩শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রাষ্টপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার বসছে। নিয়ম অনুযায়ী এ দিনে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ হওয়ার কথা। তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার থেকে বিরত রাখার দাবি জানিয়েছে বিরোধীদলীয় দলগুলো — জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) — তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বলছে, চলমান নিয়ম ও রীতির মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। বুধবার দুপুরে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ‘‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন।’’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘জুলাই সেশনের সব বিষয় এ ভাষণে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামীকাল বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। এবারই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে এবং তাদের শপথ গ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি।’’

আজ জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় দলের বৈঠক হয়েছে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভার সভাপতিত্ব করেন। আগামীকের সংসদ অধিবেশন ও সেসঙ্গে প্রয়োজনীয় কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

একই দিন দুপুরে বিরোধী দলের এমপিদেরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টদের দোসর। তারা যাকে দিয়ে ভাষণ করাতে চায়, সেই ব্যক্তির সংসদে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই।’’

তাহের আরো বলেন, ‘‘আগামীকাল যে সংসদ বসবে সেখানে আমাদের কী ভূমিকা থাকবে, তা নির্ধারণে বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেকে সংসদের অনেক সদস্যই নতুন, তাই তাদের জন্য সংসদের আচার-ব্যবহার ও চরিত্র নিয়ে কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’

ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘যখন প্রস্তাব আসবে তখন আমরা জানাবো। কালকে বিষয়টি খোলাসা করা হবে।’’ শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা মনে করে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই এবং এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত আগামীকাল প্রকাশ করা হবে।