ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে হিরো আলম গ্রেপ্তার

কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে আজ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ায়, যেখানে বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি নারি ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক আনোয়ারুল হক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

গোড়ার খবর হলো, বুধবার দুপুরে হিরো আলমের মোবাইল নম্বরে কল করলে তা রিসিভ করেন পরিচালক রবিন খান। তিনি নিশ্চিত করেন, বগুড়ার বনানী এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আরও এক সূত্র জানায়, হিরো আলম নিজ এলাকা থেকে নজরে আসার পরে সদর থানার পুলিশ তাকে ধরতে গেলে তিনি ঢাকায় পালানোর চেষ্টা করেন। পরে গাড়ি করে ধাওয়া করে শাজাহানপুরের কাছাকাছি এলাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

বগুড়া জেলা পুলিশের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৬ মে এক নারী ওই এলাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। আদালত এদিন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড ও তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। তদন্তের পরে ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়; অভিযোগে দেখা যায়, হিরো আলম মেয়েটির সাথে বিয়ের প্রলোভনে তার ধর্ষণ করেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করেন। অভিযোক্তের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর, গত বছরের ১৮ এপ্রিল তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল তাকে মারধর করা হয়, যার ফলে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয় এবং সে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে গর্ভপাত ঘটে। এছাড়া, সিনেমা তৈরির কথা বলে ওই নারী থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সব ঘটনা তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, হিরো আলম তার স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রতারণার মাধ্যমে নারীর জীবনকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং তাকে দ্রুত আদালতের সম্মুখীন করা হবে।