ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা

“প্রথমেই মাফ চাইছি—প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় আজ উপস্থিত হতে পারেননি, কর্মে ব্যস্ত থাকায় তিনি ৩৩২ নম্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)কে পাঠিয়েছেন। আপনাদের সামনে হাজির আছি আমি। আমি চেষ্টা করব তিনি যা বলতে চেয়েছিলেন সেটা যেন আপনাদের কাছে তুলে ধরতে পারি, আশা করি তিনি সন্তুষ্ট হবেন।” — এভাবে শুরু করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে পাঠানো বক্তব্য, রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (বিসিএফসিসি) এ আজ বুধবার অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে।

ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেস্টার নাম প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে তিনি উদ্ভাবনী প্রতিভা উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন করেন।

এই আয়োজনটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এক্সপোটি চার দিনব্যাপী চলবে এবং আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ক্রিয়েট হিয়ার, কানেক্ট এভরিহোয়ার’ শিরোনামে ভবিষ্যৎ কেন্দ্রিক একটি আকর্ষণীয় প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা প্রযুক্তিখাতে উদ্ভাবন, দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে আকর্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। পরে তিনি প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন—তাতে নতুন আইডিয়া ও সম্ভাবনার আলাপচারিতা দেখতে পাওয়া যায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সভার সভাপতিত্ব করেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামও এতে বক্তব্য দেন।

চার দিনব্যাপী এই এক্সপোতে উদ্ভাবনী ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল প্রযুক্তি, ই-স্পোর্টসসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রদর্শনী রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় ছাড় ও বিশেষ অফার থাকায় ব্যবসায়িক যোগাযোগ সৃষ্টির সুযোগও পাওয়া যাবে। প্রদর্শনীর সময়ে ডিজিটাল রূপান্তর, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ডিপ-টেক এবং উৎপাদন ও রপ্তানির ভিশন নিয়ে মোট পাঁচটি সেমিনার ও চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইনে অথবা স্থলীয়ভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রদর্শনীটি সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দর্শকদের সুবিধার্থে পুরো ভেন্যুতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবকরা এখানে তাদের প্রযুক্তি ও ধারণা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিক নির্ধারণ করবেন—যা এই এক্সপোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম করে তুলেছে।