ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৬২ ছাড়ালো

থাইল্যান্ডে ভয়াবহ প্রবল বন্যা আঘাত হানার কারণে অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে। ভয়াবহ ভারী বর্ষণে তৈরি হওয়া এই বন্যায় লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শনিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চাঞ্চিভিরাকুল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজের নির্দেশ দেন।

ব্যানকক থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারীর মুখপাত্র সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত জানান, দেশের আটটি প্রদেশে এই বন্যায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সঙখলা প্রদেশে সর্বোচ্চ ১২৬ জন মারা গেছেন।

বন্যার ব্যাপকতা এবং হতাহতের ঘটনায় সরকারের সমালোচনাও শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনুতিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বীকার করেছেন যে, সরকারের বন্যা ব্যবস্থাপনায় কিছু ঘাটতি দেখা গেছে। তিনি বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার বন্যা কবলিত নাগরিকদের জন্য যথাযথ সেবা ও সুরক্ষা দিতে পারেনি।’

প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আগামী সপ্তাহ থেকে ক্ষতিপূরণ বিতরণ শুরু হবে। এর আওতায় ঋণের স্থগিত, ছোট ব্যবসা ও ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য স্বল্পমেয়াদি সুদবিহীন ঋণসহ অতিরিক্ত সহায়তা দেয়া হবে।

দেশের দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে পানির স্তর কমতে শুরু করেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পানিতে ডুবে থাকা ঘরগুলোতে স্থানীয়রা ফিরে এসে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখছেন। ঘরগুলোর মেঝে জুড়ে রয়েছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসবাবপত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র।

গত সপ্তাহের শেষের দিকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ বন্যা দেশটিতে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। বহু মানুষ আটকা পড়েছেন, কিছু সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে ও নিচু ভবন ও যানবাহন পানিতে তলিয়ে গেছে।

সঙখলা প্রদেশের সবচেয়ে বড় শহর হাট ইয়াইয়ে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। উদ্ধারকর্মীরা আগে যেখানে প্রবেশ করতে পারেননি, সেসব এলাকায় পানি নেমে গেলে সেখানে গিয়ে অনেকের মরদেহ উদ্ধার করছেন।

সরকারের মুখপাত্র সিরিপং জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া হঠ ইয়াই হাসপাতালে রাজা মহা বাজিরালংকর্ণ ১০ কোটি বাথ (প্রায় ৩.১১ মিলিয়ন ডলার) দান করবেন। পাশাপাশি, মৃতদের অন্তেষ্টিক্রিয়া ও সমাধিতে রাজকীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।