ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

৩০০ বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যা, ৩৩ জনের মৃত্যু

থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৩ জনের মৃতু হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলার জন্য সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধারকাজে তৎপর হয়ে বিভিন্ন এলাকায় উপস্থিত হয়েছে। মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী ব্যস্ত শহর হাতইয়াইতে একদিনেই রেকর্ড করা হয় ৩৩৫ মিলিমিটার অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত যা শহরটির ইতিহাসে ৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

শহর জুড়ে তোলা ছবিগুলো দেখাচ্ছে, যানবাহন ও বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক বাসিন্দা তাদের বাড়ির ছাদে উঠে আছেন, আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীদের। গত এক সপ্তাহে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১০টি প্রদেশ ব্যাপক বৃষ্টিপাতের শিকার হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি মানুষ प्रभावित হলেও মাত্র ১৩ হাজার জনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে বলা হয়, অধিকাংশ মানুষ এখনও বিচ্ছিন্ন বন্দরে আছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না।

থাই সেনাবাহিনীকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা ত্রাণসামগ্রী সহ একটি বিমানবাহী রণতরি এবং ১৪টি নৌযান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব নৌযানে খাদ্য, পানি ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল রান্নাঘরও স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ খাবার সরবরাহ করতে সক্ষম।

প্রয়োজনে যুদ্ধজাহাজের মেডিক্যাল টিম দিয়ে ‘ভাসমান হাসপাতাল’ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। উদ্ধারকাজে বেশ কয়েকটি নৌকা, উঁচু চাকা-যুক্ত ট্রাক ও জেট স্কির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। সংখলা প্রদেশের গভর্নর জানিয়েছেন, এসব যানবাহনের মাধ্যমে পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রদেশের হাতইয়াই শহরটি অবস্থিত।

মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা সংখলাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে, যাতে জরুরি তহবিলের ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তবে এখনও বহু মানুষ পানিতে আটকা পড়ে আছেন।

অবিরাম বর্ষণে থাইল্যান্ডের প্রতিবেশী দেশগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিয়েতনামে এক সপ্তাহে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ জনে, আর মালয়েশিয়ায় ১৯ হাজারের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। মালয়েশিয়ায় উত্তর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।