ঢাকা | রবিবার | ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় রক্তপাত এড়ালো

সংসদ নির্বাচনের আগে জনগণের ভোটাধিকার ও জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য ঘোষণা করা পাঁচ দফা দাবির জন্য আরও এক বড় পদযাত্রা করছিলেন জামায়াতসহ আটটি ইসলামি ও রাজনৈতিক দল। তবে পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয়। এই ঘটনায় সাংবাদিক ও নেতাকর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশাল এক মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দাবি করতে যমুনা নদীর পাড়ে এসে পৌঁছানোর সময় পুলিশ তাদেরকে পেছনে ঠেলে দেয়। এ সময় নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত যমুনার তীরে এসে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

আট দলের মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

এর আগে সকাল থেকেই এই দলের নেতাকর্মীরা পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনে বিশেষ সমাবেশের জন্য জমায়েত করেন। এই সমাবেশে অংশ নেন বিভিন্ন ইসলামি দল ও সংগঠনের নেতারা। নেতারা সেখানে সরকারের কাছে জোর দিয়ে বলেছে, যেন তারা জনগণের ভোটাধিকার ও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করে। তারা আরও দাবি করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে যেন অংকের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি — অর্থাৎ, পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু হয়।

তাদের পাঁচ দফা মূল দাবি হলো: প্রথমত, জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত আদেশ জারি ও নভেম্বরে গণভোটের আয়োজন; দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে তোলা; তৃতীয়ত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; চতুর্থত, ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারী জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির দায় স্বচ্ছভাবে যাচাই করে বিচারের ব্যবস্থা করা; এবং শেষমেশ, ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি।

এই চলমান আন্দোলন ও প্রতিবাদে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নেতাকর্মীরা, যাতে সরকারের অপপ্রয়াস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ফুটপ্রিন্ট তৈরি হয়।