ঢাকা | রবিবার | ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনে মূল প্লেয়ার রাজনীতিবিদরা: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন একার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের, কারণ তারা নির্বাচনের মূল খেলোয়াড়। আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে এ কথা বলেছেন তিনি। ঐ সংলাপের শুরুতে বক্তব্য রাখছিলেন সিইসি, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

সিইসি বলেন, আমরা নির্বাচনের বিষয়ে সংলাপ শুরু করেছি, যদিও কিছুটা দেরিতে। এর পেছনের কারণ হলো, সংবিধান সংস্কার কমিশন (কনসেন্স কমিশন) স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বহু আলোচনা করে একটি সুপারিশমালা তৈরি করেছে, যার অনেক কিছু আমরা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি।

তিনি আরও বলেছেন, এখনই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে যাব না কারণ তারা বর্তমানে কনসেন্স কমিশনের সঙ্গে ব্যস্ত। ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা চাই অসুবিধা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। এর জন্য আমরা পরে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করব।

সিইসি আবির্ভাবের সময় মন্তব্য করেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করা নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা জানা খুব জরুরি। তিনি জানান, আমাদের লক্ষ্য হলো কীভাবে সুন্দর, জবাবদিহি মূলক এবং জালিয়াতিমুক্ত নির্বাচন সম্ভব, তা বুঝতে আগ্রহী।

তিনি এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচন ম্যানিপুলেট করার সুযোগ খুঁজে ফেলা জায়গাগুলো চিহ্নিত করে বন্ধ করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যেখানে পরামর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার বিষয়েও আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন সিইসি। তিনি বলেন, প্রবাসীরা ভোট দিতে চান কারণ তারা দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠায়। তাদের জন্য একটি হাইব্রিড মডেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পোস্টাল ভোটের মতো, তবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আইটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, প্রবাসী ও নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তাকে ভোটাধিকার দেওয়ারও উদ্যোগ রয়েছে।

তাঁর আরও জানান, কারাগারে থাকা নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিইসি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, আমরা একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং দেশের জনগণের সহযোগিতা। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে তিনি অঙ্গীকার করেন।