ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ কর্মীর চাকরি ছাড়া

নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযানে অপ্রত্যাশিত ঘটনার অবতারণা করছে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, ইসলামী ব্যাংক। চাকরি বিধি লঙ্ঘন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ এ মাসে একসঙ্গে আরো ২০০ কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। এই দ্বিতীয় দফার ছাঁটাই চলতি সপ্তাহে সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে মোট ৪০০ কর্মী এখন আর ব্যাংকের সঙ্গে নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেছেন, এমন ব্যাপক পরিসরে এই ধরনের শুদ্ধি অভিযান আগে নজরে আসেনি।

অন্যদিকে, ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ হলো কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। সম্প্রতি ঢাকার শাহবাগের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) পরিচালিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এর মাধ্যমে কর্মীদের মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মোট ৪১৪ জন কর্মী, এর মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকি ৫০ জনের জন্য পুনর্মূল্যায়নের জন্য ট্রেনিং দেওয়া হবে। এই পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া প্রায় পাঁচ হাজার কর্মীকে “বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত” (ওএসডি) করে রাখা হয়েছে।

অধিকাংশ সূত্র জানিয়েছে, চাকরি হারানো কর্মীদের মধ্যে কেবল অযোগ্যতার জন্য নয়, বরং পরীক্ষার সময় সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার, সহকর্মীদের বাধা ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ইসলামি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর থেকেই অনেকদের সরাসরি সিভি ভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার স্থানীয়দের নিয়োগ বেশি। এর ফলে বর্তমানে ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি কর্মীই ওই অঞ্চলের বাসিন্দা।

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং তাদের দক্ষতা যাচাই ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। এই শুদ্ধি কার্যক্রম যেন স্বচ্ছ ও যোগ্যতা অনুযায়ী হয়ে থাকে, সেটি আমাদের লক্ষ্য।