ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচক প্যানেল থেকে পদত্যাগ করলেন আব্দুর রাজ্জাক

সবশেষ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। সাবেক এই স্পিনার সাড়ে চার বছর ধরে নির্বাচকের দায়িত্ব পালন শেষে অবশেষে এটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণের জন্য আগামী ৬ অক্টোবরের নির্বাচনে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে পরিচালক পদে লড়ছেন।

খেলার মাঠে নিয়মিত পারফর্ম করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর সুযোগ অনেক সময়ই অধরা থেকে গিয়েছে। নির্বাচকদের কাছ থেকে অবিচ্ছিন্ন বঞ্চনার শিকার হয়েছেন রাজ্জাক, যার জন্য তিনি বারবারই আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। ২০১৪ সালের পর থেকে সাদা বলের ক্রিকেটে তাঁর ডাকা হয়নি। তবে ২০১৮ সালে হঠাৎ করেই টেস্ট দলের জন্য মনোনীত হন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐ টেস্ট ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর, কিছুদিন বোর্ডের তরফ থেকে বাদ পড়েন।

ক্রিকেটার হিসাবে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ দলের নির্বাচক প্যানেলে যোগ দেন রাজ্জাক। তবে তিনি পরে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। তখন তাদের জায়গায় যোগ দেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও হাবিবুল বাশার। সময়ের সাথে সাথে নান্নু ও বাশারদের সাথে বিসিবি নানান কারণে শান্তি করতে পারেনি; তবে রাজ্জাক এর দায়িত্বের ব্যাপারে অটুট থাকেন।

প্রথমে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও হান্নান সরকার সহকারে নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। যদিও কোচিংয়ে যোগ দেওয়ার আগে হান্নান নিজেকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেন।

অবশেষে, ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে বিসিবিতে পদত্যাগের ঘোষণা দেন রাজ্জাক। পাশাপাশি, তিনি আসন্ন নির্বাচনে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়ন ফর্মও সংগ্রহ করেছেন।

এ সময় তাঁর সাথে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ জুলফিকার আলি খান ফুয়াদ। শহরের আরও বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার, যেমন তামিম ইকবাল ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল,ও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তামিম ও বুলবুল ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচনে লড়ছেন।

অন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের হয়ে ১৩ টি টেস্ট, ১৫৩ ওয়ানডে ও ৩৪ টি টি-টোয়েন্টি খেলে অনেক বছর ধরে দেশের জন্য প্রতিনিধিত্ব করেছেন রাজ্জাক। তিনি মোট ২৭৯ উইকেট অর্জন করেছেন; এর মধ্যে টেস্টে ২৮, ওয়ানডেতে ২০৭ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৪৪ উইকেট। এছাড়াও, প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৬৩৪ ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৪১২ উইকেট শিকার করেছেন।