ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জেলা প্রশাসকের নির্দেশ: উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে দ্রুত শেষ করতে হবে

খুলনা: খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির জুলাই মাসের সভা রোববার (১৯ জুলাই) জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের নেতৃত্বে জেলার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক নির্দেশ দেন, চলমান সকল উন্নয়ন প্রকল্পকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত শেষ করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে তাদের নিজস্ব ওয়েবপোর্টাল নিয়মিত হালনাগাদ রাখারও জোরদার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকল্পের অগ্রগতি এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার তথ্য সহজে পাওয়া যায়। মডেল মসজিদগুলোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে দ্রুত হস্তান্তরের কথাও বিশেষ ভাবে বলা হয়।

অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মন্তব্য করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের হাসপাতালের আগুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং হাসপাতাল ও আশপাশের পরিবেশ ধূমপানমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

কয়রা উপজেলায় নানা সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষত মুন্ডা, মালোসহ অনগ্রসর সম্প্রদায়কে যুব উন্নয়ন ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো: শওকত আলী জানায়, জুলাইয়ের ১৫ তারিখ পর্যন্ত হাম সন্দেহে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ছিল ১,২০০টি এবং হাম পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৪৪ জন। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত হামজনিত মৃত্যু ১৩টি হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতেও নির্দেশ দেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: নজরুল ইসলাম সভায় বলেন, খুলনা জেলায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। জেলায় মোট কৃষক পরিবার আছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৫৬১টি। প্রাথমিক পর্যায়ে নয়টি উপজেলার পর্যায়ে প্রায় ১৫ হাজার ৬৬৯টি পরিবারকে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে, যাতে কৃষি সহায়তা ও সুবিধা দ্রুত পৌঁছানো যায়।

মৎস্য অধিদপ্তরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: বদিউজ্জামান সভায় জানান, গত মাসে চালানো বিভিন্ন অভিযানে রপ্তানিযোগ্য চিংড়িতে ফুটপথ/অবৈধ শিকার ঠেকাতে পদক্ষেপ নেয়া হয়; অভিযানে ৭২০ কেজি চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ২৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মৎস্য সংরক্ষণ আইনে সাতটি অভিযান ও চারটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল ও উপকরণ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি এক লাখ পাঁচ হাজার পোনা জব্দ করে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মাসে পালিত টিকা বিক্রয়, খামার রেজিস্ট্রেশন ফি ও কৃত্রিম প্রজনন ফি বাবদ মোট ১৯ লাখ ১ হাজার ৮০৬ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ till তারিখে মোট রাজস্ব আদায় দাঁড়িয়েছে এক কোটি ছয় লাখ ৭১ হাজার দুইশত ৯৫ টাকায়।

জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: ওয়ালিদ বিন হাবিব জানান, গত মাসে জেলার ১২টি বাজার তদারকি করা হয়েছে। ২০টি প্রতিষ্ঠানকে দণ্ড প্রদান করে মোট এক লাখ চৌনব্বই হাজার (১,৯৪,০০০) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক সকল দপ্তরকে স্থানীয় মানুষের স্বার্থে দ্রুত কাজ বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তথ্যপ্রকাশ বজায় রাখতে আবারও নির্দেশ দিয়েছেন।