ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

হাটহাজারীতে পুলিশের ‘সোর্স’ বলে জানানো দর্জিকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় বুধবার (১০ জুলাই) সকালে এক দর্জিকে গুলি ও ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। নিহতের নাম মুহাম্মদ আজম (৪৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেখল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেখল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজমের বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে মাত্র চার-পাঁচশ মিটার দূরে।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, ওই সকালেই আজম বাড়ির নিকটস্থ একটি বিলের কাছাকাছি জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। তখন কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে প্রথমে তার পায়ে গুলি করে। পরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে কোপ মারতে থাকে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

স্থানীয়রা জানান, আজম নিজেই ঘরে বসে দর্জির কাজ করে জীবনযাপন করতেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডটি স্থানীয় এক চিহ্নিত ব্যক্তির নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে। এলাকার ইউপি সদস্য মো. সৈয়দ মিয়া জানান, আজমের সঙ্গে একই এলাকার কিছু লোকের সঙ্গে পূর্ববিরোধ ছিল; লোকসমাজ এখন দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আজিজ জানান, নিহত মুহাম্মদ আজম পুলিশের সঙ্গে সংযুক্ত ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ব্যক্তিগত শীতলকাল বা পূর্ববিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। সুরতহালে তার পায়ে গুলির ছিদ্র ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কাটের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দিদারুল নামের এক স্থানীয় বাসিন্দাকে ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই দিদারুলকে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে থানায় আটটি মামলা রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম দিয়ে অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশও তৎপরতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।