ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়াল

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০ জনে পৌঁছেছে। তিন দিন আগে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়ানোর পর এই নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ডব্লিউএইচও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হালনাগাদে জানায়, গত মে মাসের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব ঘোষণা হওয়ার পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১,৭৫৯টি ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এদের মধ্যে ৬০০ জন মারা গেছেন। একই দিকে ২৮৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং আরও ৩০৪টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের তদন্ত চলছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশটিতে ইবোলার মৃত্যুহার প্রায় ৩৪ শতাংশ।

প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে; সেখানে এখন পর্যন্ত ২০টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে চারটি প্রদেশে ছড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ইতুরি প্রদেশে, যেখানে নিরাপত্তাহীনতা এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রোগ প্রতিরোধ ও তল্লাশির কাজকে ব্যহত করছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ভাইরাসটি বিরল বুন্ডিবুগিও (Bundibugyo) প্রজাতির; এটির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা কিংবা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে সম্ভাব্য চিকিৎসার কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য গত ২ জুলাই ডিআর কঙ্গোতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এতে এমবিপি-১৩৪ নামে একটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এবং একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধকে এককভাবে ও যৌথভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় চিকিৎসা কর্মীরা রোগী শনাক্তকরণ, যৌথ তল্লাশি ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনিশ্চিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সীমিত স্বাস্থ্যসেবা সুযোগ এই প্রচেষ্টা কঠিন করে তুলছে। ডব্লিউএইচও ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পরীক্ষার ক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।