ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মেসি-এমবাপের সঙ্গে হালান্ডও সাত গোল, বিশ্বকাপে প্রথমবার এমন ঘটনা

আর্লিং হালান্ডের অভিষেক বিশ্বকাপ কাহিনি এখনো শেষ হয়নি — তিনি লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে মিল রেখে এক আসরে সাত গোল পূর্ণ করে ইতিহাসের একটি বিরল অধ্যায় লিখে ফেলেছেন। এভাবে এক টুর্নামেন্টে তিন জন খেলোয়াড়ই ন্যূনতম সাত গোল করেছেন—বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথমবার।

রোববার গভীররাতে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে নরওয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায় এবং সেই ম্যাচে হালান্ড করেন জোড়া গোল। মেসি-এমবাপের ছায়া পেছনে ফেলে নিজের স্বতন্ত্র গল্পটা হালান্ডই লিখছেন।

৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড জাতীয় দলের জার্সিতে যে গোলমেশিন, তা আগেই প্রমাণ করেছেন—সর্বশেষ ১৪ ম্যাচে ২৭ গোল। ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়ের এই সাফল্য এবং নিজের পারফরম্যান্স সম্পর্কে হালান্ড বলছেন, এমন রাত নরওয়েতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

একই আসরে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় এখন হালান্ডের নামও যোগ হয়েছে; এই রেকর্ড আগে কেবল পোলিশ ফুটবলার গ্রেজেগর লাতোর (১৯৭৪) সঙ্গে জুড়ে ছিল। মেসি, এমবাপে বা রোনালদোদের মতো বড় নামেরা তাদের অভিষেক বিশ্বকাপে এতটা গোল করতে পারেননি—হালান্ড তা করে দেখিয়েছেন।

এ ছাড়াও এই বিশ্বকাপে হালান্ডের তৃতীয় ম্যাচে একাধিক গোল করার রেকর্ডটি তাকে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ কাতারে বসিয়েছে। শুধুমাত্র জাস্ট ফন্টেন (১৯৫৮) ও স্যান্ডর কোচসিস (১৯৫৪) ছিলেন এমন তালিকায় তার চেয়েও এগিয়ে।

ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে হালান্ড এমন এক কৃতিত্বও অর্জন করলেন—বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এক ম্যাচে জোড়া গোল করা তিনজনের তালিকায় তিনি তৃতীয় (অন্য দু’জন হলেন জার্মানির টনি ক্রুস ও আন্দ্রে শুরলে)।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্কে হালান্ড বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে ন্যূনতম চারটি ম্যাচে জয়সূচক গোল করেছেন; এই কোলনে বর্তমানে সালভাতোর শিল্লাচি ও গের্ড মুলারের নামও রয়েছে, আর একমাত্র গ্রেজেগর লাতো করেছেন পাঁচটি ম্যাচে জয়সূচক গোল।

বিশ্বকাপ এখন মাত্র শেষ ষোলোতে, তাই সামনে আরও রোমাঞ্চকর মুহূর্ত এবং নতুন বিস্ময় দেখা দিতে পারে। হালান্ডের রূপকথা এখনও চলমান—আপাতত তিনি প্লেয়ারের তালিকায় তাঁর নাম জোরালো অক্ষরে খোদাই করে ফেলেছেন।