ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশ ব্যাংকের শেষ সতর্কতা: চার ফাইন্যান্স কোম্পানিকে তিন মাস, ব্যর্থ হলে রেজল্যুশন

টানা লোকসান, অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের বোঝা টেনে দাঁড়াতে না পেরে চারটি ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি জনপ্রতি পাস হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে শর্তসাপেক্ষে তিন মাসের অতিরিক্ত সময় ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন মূলধন যোগ করা, গ্রহণযোগ্য তারল্য নিশ্চিত করা, খেলাপি ঋণ আদায় বা পুনর্গঠন করা এবং সাধারণ আমানতকারীদের জমানো টাকা পরিশোধের কার্যক্রম শুরু করতে হবে। সময়সীমা লঙ্ঘিত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী সরাসরি অবলুপ্তি, একীভূতকরণ বা অন্যান্য চূড়ান্ত রেজল্যুশন কর্মসূচি শুরু করে দেবে।

বিশেষ তিন মাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হল প্রাইম ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং এ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে টিকে থাকতে হলে পরিচালনা পর্ষদ ও স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে তহবিল যোগাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তারল্য সংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিজস্ব সম্পদ বা সম্পত্তি বিক্রি, বকেয়া ঋণ আদায় এবং খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা সমঝোতার মাধ্যমে নন পারফর্মিং লোনের হার নির্ধারিত মাত্রায় নামিয়ে আনতে হবে। বিশেষভাবে ক্ষুদ্র ও সাধারণ আমানতকারীদের আমানত দায় পরিশোধ করা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

একেবারে শেষ পরিণতির ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে এই চার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। গ্রাহকেরা তহবিল উত্তোলনে বহুবার ধাক্কা খাচ্ছেন। নতুন আইনের আওতায় সরকারের এই কড়া অবস্থান আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অপরিহার্য বলে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক পরিষ্কার জানিয়েছে যে নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান শর্তাবলীর একটি কিংবা একাধিক শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট বিলম্ব না করে আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত পদক্ষেপ শুরু করবে। এই পদক্ষেপের মধ্যে হতে পারে ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, একীভূতকরণ অথবা অবলুপ্তি।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া পদক্ষেপ আর্থিক খাতে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে, কিন্তু তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে প্রয়োজনীয় মূলধন জোগাতে পারবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও সন্দেহ রয়েছে।