ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

‘দ্বিতীয় বেনজীর’ মোজাম্মেল এখনো অধরা — দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি

মানুষ চায় অপরাধীর বিচার হোক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। এই প্রত্যাশাই প্রকাশ পেয়েছে যখন দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার হলেন — অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার দ্রুত দেশে ফেরত আনা ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে: ‘বেনজীরের ডানহাত’ বলে খ্যাত সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী মোঃ মোজাম্মেল হক কী করে এখনও স্বচ্ছন্দে দেশে ঘোরেন, তাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না?

২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকেই পত্রিকায় বেনজীর আহমেদের কুকীর্তি ও অঢেল অবৈধ সম্পদ সম্পর্কে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এপ্রিল মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর ও পরিবারের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে। অভিযোগ উত্থাপনের পরে ২০২৪ সালের ৪ মে বেনজীর আহমেদ দেশ ত্যাগ করেন।

অনুসন্ধানকারীরা শুধু বেনজীরকে নিয়েই থেমে না, তারা ‘দ্বিতীয় বেনজীর’ নামে পরিচিত হওয়া গাজী মোঃ মোজাম্মেল হকসহ আরও অনেকের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যান্য অভিযোগ উন্মোচন করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলামও সেই প্রতিবেদনের ভূমিকা স্মরণ করেছেন এবং সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, জনগণ প্রথমবারের মতো বেনজীরের অঢেল সম্পদের কথা জানতে পেরেছে এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে।

মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে জমি দখল, ক্ষমতার দुरব্যবহার, জোরপূর্বক জমি লিখে নেয়া, নদী ভরাট, অবৈধ সম্পদ সঙ্কলন এবং শত শত কোটি টাকার সম্পদ থাকার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনও বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। عدالتও কিছু সম্পত্তি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বহু বছরের জড়ো হওয়া অভিযোগের সমষ্টি। এত বিস্তৃত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার বা আইনের আওতায় না আনতে পারা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতিফলন—এমন উদ্বেগ অনেকেরই। অপরাধীরা যদি শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারে, সেটি অন্যদেরও অপরাধে প্ররোচিত করে।

দেশে অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা থাকলেও জবাবদিহিতার অভাব অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা বাড়াচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা বা অংশগ্রহণ অপরাধপ্রবণতা বাড়ানোর অন্যতম কারণ। তাই আমরা মনে করি বেনজীরের মতোন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সম্প্রতি যারা গুরুতর অভিযোগের সঙ্গে জড়িত তাদের সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে—এটাই অপরাধপ্রতিরোধ ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে অপরিহার্য।