ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের বন্দরে জাহাজ চলাচল শুরু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার পর ইরানের বিরুদ্ধে আরোপ করা নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে—এই ঘোষণার পর ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং দুইটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ সফলভাবে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ।

মেহের নিউজ বলেছে, জাহাজগুলো সোমবার সন্ধ্যায় যাত্রা শুরু করে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি চূড়ান্ত হওয়া সমঝোতা স্মারকের প্রথম প্রতিফলন হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানায়, নৌ-অবরোধ থাকায় এসব জাহাজ কয়েক মাস ধরে বন্দরে আটকা পড়েছিল। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক জলসীমা ব্যবহার করে কোনো বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক সূত্রগুলোর বরাতে প্রেস টিভিতে এ কথা বলা হয়েছে।

সমঝোতা স্মারক পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় চূড়ান্ত হয়েছে। ওই চুক্তি আদেশ করে যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধাবস্থা বন্ধ করা হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে। মূহূর্তেই এই সিদ্ধান্ত প্রয়োগে চালু হওয়ার পেছনে সেকারণেই জাহাজগুলোর দ্রুত মুক্তি সম্ভব হয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি) এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে যে তেহরান ও ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। খসড়ায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী বিরতি ও নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি সোমবার জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের মধ্যে সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই পরবর্তী পর্যায়ের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার ফলে এখন থেকে ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং পণ্যবাহী জাহাজগুলো ইরানি ও আন্তর্জাতিক উভয় জলসীমায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সূত্র: মেহের নিউজ